শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ফেনীর তিন আসনে ২৬ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারালেন ২০ জনই

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ফেনীর তিনটি আসনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ছয়জন প্রার্থী ছাড়া বাকি ২০ জনই জামানত হারিয়েছেন।

নির্বাচন আইন অনুযায়ী মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ (১২.৫ শতাংশ) ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ফেনী-১ আসন

ফেনী-১ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫১ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৪৭ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ফলে জামানত ফিরে পেতে কোনো প্রার্থীকে কমপক্ষে ১৭ হাজার ৪০৩ ভোট পেতে হতো।

ঘোষিত ফলাফলে—

বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু পান ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট, জামায়াতের অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) পান ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের কাজী গোলাম কিবরিয়া (হাতপাখা) পান ৫ হাজার ৩২৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী (লাঙ্গল) পান ৯৪০ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্লাহ ভূঞা (বটগাছ) পান ৩১০ ভোট, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী (ডাব) পান ২১৫ ভোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার (হারিকেন) পান ১৮৮ ভোট।

এ আসনে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু ও জামায়াতের এসএম কামাল উদ্দিন ছাড়া বাকি ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ফেনী-২ আসন

ফেনী-২ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ২৯ হাজার ২০৩ জন। জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন ছিল অন্তত ১৮ হাজার ৩৩৬ ভোট।

ঘোষিত ফলাফলে—

বিএনপির অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন পান ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু (ঈগল) পান ৮০ হাজার ৫৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা (হাতপাখা) পান ৬ হাজার ৮৪৯ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হারুনুর রশিদ ভূঞা (রিকশা) পান ৮২০ ভোট, আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার (প্রজাপতি) পান ৮০১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল (ঘোড়া) পান ৭০৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মো. তারেকুল ইসলাম ভূঞা (ট্রাক) পান ৪০৯ ভোট, বাসদের (মার্কসবাদী) জসিম উদ্দিন (কাঁচি) পান ৩২২ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন (বটগাছ) পান ৩০৪ ভোট, জেএসডির সামসুদ্দিন মজুমদার (তারা) পান ২৪০ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লবের তাহিরুল ইসলাম (আপেল) পান ২৩৯ ভোট।

এ আসনে বিএনপির জয়নাল আবেদিন ও এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু ছাড়া বাকি ৯ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ফেনী-৩ আসন

ফেনী-৩ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৮ হাজার ১৯৪ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ জন ভোট দেন। জামানত ফিরে পেতে প্রয়োজন ছিল অন্তত ২২ হাজার ৬৩২ ভোট।

ঘোষিত ফলাফলে—

বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু পান ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট, জামায়াতের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক (দাঁড়িপাল্লা) পান ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইফ উদ্দিন (হাতপাখা) পান ৬ হাজার ৭০১ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান (লাঙ্গল) পান ১ হাজার ৪২৭ ভোট, বাসদের আবদুল মালেক (মই) পান ৭৩১ ভোট, ইসলামী ফ্রন্টের মো. আবু নাছের (চেয়ার) পান ৫৩১ ভোট, ইনসানিয়াত বিপ্লবের হাসান আহমেদ (আপেল) পান ৩২৭ ভোট, খেলাফত আন্দোলনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী (বটগাছ) পান ৩২০ ভোট।

এ আসনে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু ও জামায়াতের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক ছাড়া বাকি ৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ফেনীর তিনটি আসনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ৪২৮টি কেন্দ্রের ২ হাজার ৪৩৯টি কক্ষে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

জেলায় মোট ভোটার ছিলেন ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬৭ জন, নারী ভোটার ৬ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ৮ জন।

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি আসনে মোট ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ফেনী-১ আসনে ৭ জন, ফেনী-২ আসনে ১১ জন এবং ফেনী-৩ আসনে ৮ জন প্রার্থী ছিলেন।

ফলাফল অনুযায়ী, তিন আসনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ছয়জন প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন, আর বাকি ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন