
ফেনীতে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত এক দোকানির মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান। এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ছিনতাইয়ের শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত দোকানির নাম মোহাম্মদ বাকের। তিনি ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও খায়েজ আহম্মেদের ছেলে। লেমুয়া বাজারে তাঁর একটি দোকান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ৭ ডিসেম্বর রাতের দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে লেমুয়া ইউনিয়নের দেওয়ানজি বাড়ি পুকুরের সামনে ছিনতাইকারীরা বাকেরের পথরোধ করে। এ সময় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ছিনতাইকারীরা তাঁর কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ও একটি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা মোহাম্মদ বাকেরকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী খালেদা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর স্বামীর মুখ ও মাথায় একাধিক জখমের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর থেকেই তিনি অচেতন ছিলেন।
এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. শাহজাহান সুজন (২৪), ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া মুহুরি বাড়ির আবদুল কাশেমের ছেলে এবং শাকিল খান (২২), সোনাগাজী উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর স্লুইসগেট এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই ফেনীর ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ফেনী মডেল থানার অধীন বোগদাদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় দোকানি বাকেরের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।









