বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬

ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে সুসজ্জিত গাড়িতে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বিদায়

ওসমান গনি, চান্দিনা প্রতিনিধি

RisingCumilla - Retired headmaster bid farewell in a decorated vehicle amidst a shower of flower petals.
ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে সুসজ্জিত গাড়িতে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বিদায়

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যে মানুষটি প্রতিদিন বিদ্যালয়ের ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন গড়ার কাজে নিজেকে নিবেদিত রেখেছিলেন, বিদায়ের দিন তাঁকেই ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় ভাসিয়ে দিলেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা। ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে, করতালির মধ্য দিয়ে এবং সুসজ্জিত একটি গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় জানানো হয় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছাতাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল ইসলামকে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ ৩১ বছরের শিক্ষকতা জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থীরা এ সংবর্ধনার আয়োজন করেন।

বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লিপিকা রানী পোদ্দার।

অম্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দে’র সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কাউছার আহমেদ ভূইয়া এবং সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতিহা বিনতে বশীর।

এ সময় বক্তব্য রাখেন ছাতাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী মেম্বার, সাবেক সভাপতি মোসলেম উদ্দিন মজুমদার, মহিচাইল জোবেদা মমতাজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামাল হোসেন, মহিচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম নজরুল ইসলাম, বাতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শীবানী চক্রবর্তী, দৈনিক কালবেলার চান্দিনা প্রতিনিধি আকিবুল ইসলাম হারেছ, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারজানা আক্তার এবং সাবেক শিক্ষার্থী আবুল বাশার ও মাসুদ রানা।

বক্তারা বলেন, ১৮ জানুয়ারি ১৯৯৫ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন মো. নুরুল ইসলাম। দীর্ঘ ৩১ বছরের কর্মজীবনে তিনি শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাঁর প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ে তিনতলা ভবন নির্মিত হয়েছে। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য অর্জনেও ছিল তাঁর নিরলস উৎসাহ। সততা, শৃঙ্খলা, কর্মনিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার জন্য তিনি এলাকাবাসীর কাছেও একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁকে ক্রেস্ট, পোশাক ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। বিদায়বেলায় কর্মজীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরে উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মো. নুরুল ইসলাম।

পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে করতালি ও ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে তাঁদের প্রিয় শিক্ষককে শেষবারের মতো সম্মান জানান। এরপর সুসজ্জিত একটি গাড়িতে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেন তারা। প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ের সেই দৃশ্য উপস্থিত অনেকের চোখেই এনে দেয় অশ্রু, আর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় ভরা এ আয়োজন হয়ে থাকে বিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়।

আরও পড়ুন