
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহকে সমর্থন জানিয়েছিলেন মনির মেম্বার নামের এক ব্যক্তি। সেসময় তিনি বলেছিলেন, ‘যদি হাসনাত একটা ভোটও পায়, সেটাও হবে মনির মেম্বারের।’
নির্বাচনে জয়লাভের পর হাসনাত আব্দুল্লাহ সেই মনির মেম্বারের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
হাসনাত বলেছেন, মনির মেম্বাররা যারা অনুচ্চারিত, ছোট, নিরব। তবু পথ চিনিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট, যারা কোনোরূপ ঘোষণা ছাড়া, দাবি ছাড়া পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন,যাঁরা পৃথিবীর ভিড়ভাট্টা, স্বার্থের ওঠানামার বাইরে গিয়ে, প্রয়োজনে নিঃশব্দে পাশে দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের জেতালেন, তাদের প্রতি অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টটিতে হাসনাত মনির মেম্বারের সঙ্গে তোলা একটি ছবি শেয়ার করেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, ভদ্রলোকের নাম মনির মেম্বার। বড় শালঘর ইউনিয়নে বাড়ি। আমি যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন একটা ভিডিও সামনে আসে। ভিডিওতে দেখি, এই মনির সাহেবকে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের একজন ব্যক্তি বোঝাচ্ছে, ‘হাসনাতের দল করে লাভ কী? হাসনাত তো কেন্দ্রে এজেন্টও দিতে পারবে না। ওর দল করা ছেড়ে দেন।’
উত্তরে মনির মেম্বার জানান, যদি হাসনাত দুইটা ভোট পায়, তাহলে একটা হাসনাতের নিজের আর একটা আমার। যদি একটা ভোটও পায়, সেটাও হবে মনির মেম্বারের। এই ঘটনার পর মনির মেম্বারের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়।
হাসনাত আরও লেখেন, ভোট জেতার পর কাল তাকে জিজ্ঞাসা করলাম ‘দেখা করতে আসলেন না কেন?’ মনির মেম্বার বললেন, খেলোয়াড় ট্রফি দেখতে আসে না। খেলোয়াড় ট্রফি জিততে আসে। আমাদের জেতা শেষ, আমরা এখন পরের ম্যাচের ট্রফি জেতার প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে দর্শক দেখতে পারে।
কুমিল্লা-৪ আসনের সাংসদ বলেছেন, ‘মনির মেম্বার আরো বলেন, আবার যখন আপনার দরকার পড়বে, আপনাকে আমাদের খুঁজতে হবে না। মাঠে যদি একজন মানুষও আপনার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে, বুঝবেন, এই মনির মেম্বার তখনও সেই একই জায়গাতেই আছে।’
হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, ‘এইসব মনির মেম্বাররা পথ চিনিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ পরে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পৃথিবীর ভিড়ভাট্টা, স্বার্থের ওঠানামার বাইরে গিয়ে, প্রয়োজনে নিঃশব্দে পাশে দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের জেতালেন। তাঁদের প্রতি অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা।









