
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনী সফরে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ফেনী সফরকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সফর সফল করতে দলীয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
তবে রাজনৈতিক উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বন্যা ও নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান। পাশাপাশি ফেনীতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যোগাযোগ ও অবকাঠামোর উন্নয়নের দাবিও রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মুহুরী-কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
গত ২৫ আগস্ট পরশুরামে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির স্থান পরিদর্শন করেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় দলীয় নেতাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
বন্যার স্থায়ী সমাধান সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, ফেনীবাসীর সবচেয়ে বড় দাবি বন্যার স্থায়ী সমাধান। প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙনে জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর স্থায়ী সমাধানের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
ফেনী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন বলেন, বন্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি ফেনীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ দাবিও তুলে ধরা হবে। বিষয়টি তারেক রহমানের জানা রয়েছে এবং তিনি ইতিবাচক ঘোষণা দেবেন বলে আশা করছেন তারা।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, মুহুরী-কহুয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সীমান্তের ওপার থেকে আসা পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে নদী খনন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের দাবি
ফেনীতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও দীর্ঘদিনের। স্থানীয় নেতাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের উন্নয়ন উদ্যোগের ঘোষণা আসতে পারে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ফেনীতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা মানুষের প্রাণের দাবি। এ ছাড়া একটি ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।
লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি
ফেনীর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণও স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, লালপুলে আন্ডারপাস নির্মাণ না হলে জায়গাটি প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে থাকবে।
এ ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের দাবিও রয়েছে স্থানীয়দের।
ফুলগাজী নিয়েও প্রত্যাশা
ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপ বলেন, ফেনীর সঙ্গে তারেক রহমানের পারিবারিক ও আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে তার কাছে ফেনীবাসীর প্রত্যাশাও বেশি।
তিনি ফুলগাজীতে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা, ফুলগাজী সদরকে পৌরসভায় উন্নীত করা এবং খালেদা জিয়া কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনুও ফুলগাজীকে পৌরসভায় উন্নীত করা এবং বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুসহ স্থানীয় উন্নয়নের বিভিন্ন দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন।
‘উন্নয়নের দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চায় ফেনীবাসী’
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েল বলেন, আগামী পাঁচ বছরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। সেই উন্নয়নের দৃশ্যমান পরিবর্তন ফেনীবাসীও দেখতে চায়।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ফেনী জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস মিতা বলেন, ফেনীর সঙ্গে তারেক রহমানের পারিবারিক ও আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। তাই তার কাছে ফেনীবাসীর প্রত্যাশাও অনেক বেশি। ফেনীকে আধুনিক ও মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করেন তিনি।
সফর সফল করতে বিএনপির ব্যাপক প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে বিএনপির প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী। সুধী সমাবেশ ও জনসভা সফল করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও কাজ করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের প্রথম ফেনী সফর ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশার তালিকা বেশ দীর্ঘ। তবে সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন রোধ। এর সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের দাবিও রয়েছে।









