বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬

প্রথম দেশ হিসেবে ‘স্টারলিংক’ অচল করে দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Rising Cumilla - Iran becomes first country to disable Starlink
প্রথম দেশ হিসেবে ‘স্টারলিংক’ অচল করে দিল ইরান/ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় দেশটির সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলে, ইরানের জনগণের জন্য বিনামূল্যে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ঘোষণা দেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। সে অনুযায়ী ইরানে স্টারলিংক সেবা পাঠানো হলেও, সামরিক জ্যামার ব্যবহারের মাধ্যমে সেই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান সরকার।

ইরান ওয়্যারের বরাতে মার্কিন বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ভেতরে হাজার হাজার স্টারলিংক ইউনিট চালু রয়েছে—এমন খবর শোনা গেলেও বাস্তবে দেশটির ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট স্যাটেলাইট সংযোগকেও গ্রাস করেছে। ফলে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ফোর্বস জানায়, শুরুতে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বর্তমানে স্টারলিংক ইন্টারনেটের ৮০ শতাংশেরও বেশি ট্র্যাফিক কার্যক্রম প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে।

উল্লেখ্য, স্টারলিংক রিসিভার স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য জিপিএস সিগন্যাল ব্যবহার করে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকেই ইরান নিয়মিতভাবে জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করে আসছে।

এর ফলে শাটডাউনগুলো স্থানভেদে কার্যকর হচ্ছে এবং স্টারলিংক সংযোগে এক ধরনের ‘প্যাচওয়ার্ক কুইল্ট’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে কিছু এলাকায় আংশিক সংযোগ থাকলেও, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট দেখা যাচ্ছে।

মিয়ান গ্রুপের ডিজিটাল অধিকার বিশেষজ্ঞ আমির রাশিদি টেকরাডারকে বলেন, ‘আমি গত ২০ বছর ধরে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করছি, কিন্তু জীবনে এমন কিছু কখনো দেখিনি।’

স্টারলিংক ডেটা প্যাকেটের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা প্রযুক্তিবিদদের মতে, স্যাটেলাইট সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণেই ইরানে স্টারলিংকের ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত ব্যাহত হয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা ফোর্বসের প্রতিবেদক সাইমন মিগলিয়ানো জানান, ‘এই কিল সুইচ পদ্ধতির খরচ অত্যন্ত ভয়াবহ। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ইরানের অর্থনীতি থেকে প্রায় ১৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার ক্ষতি হচ্ছে।’

আরও পড়ুন