শনিবার ১ আগস্ট, ২০২৬

পোলাও চাল কিনতে হিমশিম, এক মাসে কেজিতে বেড়েছে ৬০-৮০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

RisingCumilla - Chinigura Rice
ছবি: সংগৃহীত

অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সুগন্ধি ও পোলাওয়ের চালের দাম। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মানভেদে প্রতি কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।

শনিবার (১ আগস্ট) কুমিল্লা নগরীর রানীর বাজার, রাজগঞ্জ বাজার, বাদশা মিয়ার বাজার ও চকবাজার ঘুরে দেখা যায়, ভালো মানের পোলাও ও চিনিগুঁড়া চাল বর্তমানে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগেও একই চালের দাম ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।

কুমিল্লার রাজগঞ্জ বাজারে চাল কিনতে আসা মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, “এক মাস আগেও যে চাল ১৫০ টাকার মধ্যে কিনেছি, এখন একই চাল ২০০ টাকার বেশি। সামনে পারিবারিক অনুষ্ঠান রয়েছে, তাই বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”

কুমিল্লা আদালত এলাকার গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, “সুগন্ধি চাল এখন অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতি মাসেই বাজারে এসে নতুন দাম শুনতে হচ্ছে।”

রাজগঞ্জ বাজারের এক চাল ব্যবসায়ী জানান, “গত এক মাসে পাইকারি বাজার থেকেই সুগন্ধি চালের দাম অনেক বেড়েছে। ভালো মানের ৫০ কেজির বস্তা এখন ১০ হাজার টাকার বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সরবরাহও আগের মতো নেই। তাই খুচরা বাজারে দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি।”

চকবাজারের আরেক ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, “দেশের বাইরে সুগন্ধি চালের চাহিদা বাড়ার কারণে অনেক ব্যবসায়ী রপ্তানিমুখী হয়েছেন। পাশাপাশি মোকামগুলো থেকেও পর্যাপ্ত চাল আসছে না। ফলে বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।”

ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সুগন্ধি চালের চাহিদা বাড়ায় রপ্তানি বেড়েছে। একই সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মজুদের কারণেও বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে।

অন্যদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে চালের প্রকৃত সংকট না থাকলেও কার্যকর তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অতিরিক্ত মুনাফা করছে।

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা না হলে সুগন্ধি চালের দাম আরও বাড়তে পারে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দফায় মোট ২৩ হাজার ৯৫৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রপ্তানির পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও বাজার তদারকি নিশ্চিত করা গেলে দাম কিছুটা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরতে পারে।

আরও পড়ুন