
দেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত মেডিকেল টিম গঠন, অ্যাম্বুলেন্স রেডি রাখা, জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম চালু রাখাসহ দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালকে ১০টি জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এ নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সতর্কতা ও প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিটি সিটি কর্পোরেশনে ৬টি, বিভাগীয় পর্যায়ে ৪টি, জেলা পর্যায়ে ৩টি, উপজেলা পর্যায়ে ২টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১টি করে মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে। জনবলের প্রাপ্যতা ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে মেডিকেল টিমের সদস্য নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান বা স্বাস্থ্য প্রশাসক।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো কারণে প্রতিষ্ঠান প্রধান ছুটিতে থাকলে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করে তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করতে হবে।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর প্রতিও বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক উপস্থিতিতে জরুরি বিভাগ চালু রাখতে হবে। কোনো রোগী রেফার করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও যথাযথ কাউন্সেলিং নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখতে হবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি প্রয়োজনে লজিস্টিক, অ্যাম্বুলেন্স ও জনবল সহায়তা দিতে হবে।
এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সকল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়, সিভিল সার্জন অফিস এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। জরুরি বিভাগ, অন্তঃবিভাগ, ল্যাব, ক্যাথল্যাব, ডায়ালাইসিস সেন্টার, সিটি স্ক্যান ও এমআরআই সেন্টার নিয়মিতভাবে খোলা রাখতে হবে।
এছাড়া বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় ও সিভিল সার্জন অফিসে ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।








