
কুমিল্লায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত রোববার জেলা তথ্য অফিস, কুমিল্লার আয়োজনে জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় নারী সমাজ, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নূরুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রচার ও সমন্বয়) ডালিয়া ইয়াসমিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক সাইফ উদ্দিন আহম্মেদ; জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক ফারহানা আমিন; এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক নার্গিস কবির।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সামাজিক উন্নয়নে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের নারী সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে।
সমাবেশে জানানো হয়, গত ১০ মার্চ শুরু হওয়া নতুন প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলো আর্থিক সহায়তা পাবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চার কোটি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বক্তারা আরও জানান, আগামী মাসে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া বর্তমান সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৮ জন ক্ষুদ্র কৃষক উপকৃত হবেন। এ কর্মসূচির আওতায় ১৫টি রাষ্ট্রীয় ও বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, অধ্যক্ষ ও যাজকদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানের বিষয়টিও সমাবেশে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে আগামী ১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের বিষয়েও উল্লেখ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, নারীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে নারী চালক ও হেল্পার দিয়ে পরিচালিত বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। নারীদের আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং সামাজিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
তারা উল্লেখ করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এনজিও ও কমিউনিটি পর্যায়ের সহযোগিতা থাকলে নারীদের স্বনির্ভরতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।









