
নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই সামাজিক উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল।
রোববার (৩১ মে) কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর সাহেব বাড়ি মাঠে জেলা তথ্য অফিস কুমিল্লার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের আওতায় মাদক, গুজব ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা এবং খাল খননসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মো. আবদুল জলিল বলেন, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে। দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতি আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশের উন্নয়নে প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ নুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাহেল মুসা, পল্লী স্বাস্থ্য উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কাজী মাহাতাব এবং সমাজসেবক মো. জসিম উদ্দিন।
সমাবেশে বক্তারা নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মনির্ভরতা এবং সামাজিক উন্নয়নে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নারী সমাজ, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রধান অতিথি জানান, ২০২৬ সালের ১০ মার্চ চালু হওয়া কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। পরে ১৬ মে চাঁদপুরে আরও ২০ জেলার ১৫ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ক্ষুদ্র কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নারীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ বাস সার্ভিস চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ সেবায় চালক থেকে শুরু করে সহকারী পর্যন্ত সবাই নারী থাকবেন বলে জানান।
মো. আবদুল জলিল বলেন, নারীদের আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ নারীদের স্বনির্ভরতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিতদের জন্য একটি সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।









