বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দই খাওয়া নিয়ে যত ভুল ধারণা—জানুন আসল সত্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক

দই/প্রতীকি ছবি এআই/রাইজিং কুমিল্লা

দই বহু যুগ ধরেই আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার পরিচিত একটি উপাদান। তবু আধুনিক সময়ে এসে এটি হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝা খাবারগুলোর একটি। কেউ বলেন, দই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী; আবার কেউ একে পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন—কারণ তাদের ধারণা, দই খেলে সর্দি হয়, ওজন বাড়ে কিংবা হজমে সমস্যা দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ধরনের স্বাস্থ্য পরামর্শ এই বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বাস্তবতা হলো—দই নিজে থেকে না জাদুকরী কোনো খাবার, না আবার ক্ষতিকর। সবকিছুই নির্ভর করে ব্যক্তিভেদে শরীরের প্রতিক্রিয়া এবং দই খাওয়ার ধরন ও পরিমাণের ওপর।

ভারতীয় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডা. সায়াজিরাও গাইকওয়াড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে দই নিয়ে প্রচলিত বেশ কয়েকটি ভুল ধারণার ব্যাখ্যা ও বাস্তব সত্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, অযথাই নানা স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য দইকে দায়ী করা হয়, যার পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

চলুন জেনে নেওয়া যাক দই নিয়ে প্রচলিত সেই মিথগুলো এবং বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা—

মিথ ১: দই খেলে সর্দি, কাশি ও সাইনাস হয়

ডা. গাইকওয়াড বলেন, দই মিউকাস তৈরি করে বা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটায়—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। দই খাওয়ার পর কারও অস্বস্তি হলে তা মূলত ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতার কারণে হতে পারে, দই নিজে ক্ষতিকর বলে নয়।

মিথ ২: রাতে দই খাওয়া উচিত নয়

রাতে দই খাওয়া নিষিদ্ধ—এমন কোনো নিয়ম নেই। যাদের হজমশক্তি ভালো, তারা রাতের খাবারের সঙ্গে সাধারণ দই খেতে পারেন। সাধারণত সমস্যা হয় তখনই, যখন দইয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ভারী বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া হয়।

মিথ ৩: দই ওজন বাড়ায়

এটি দই নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর একটি। দইয়ে থাকা প্রোটিন ও প্রোবায়োটিক পেট ভরার অনুভূতি বাড়ায় এবং বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। নিয়মিত দই খাওয়া বরং শরীরের চর্বি কমাতে এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক।

মিথ ৪: দই হজমের জন্য ক্ষতিকর

তাজা দই অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি ল্যাকটোজ হজমে সাহায্য করে এবং অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখে। সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন দই অতিরিক্ত টক, বেশি ফারমেন্টেড, অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া হয় বা আগে থেকেই কারও হজমের সমস্যা থাকে।

মিথ ৫: খাবারের সঙ্গে দই খাওয়া উচিত নয়

ঐতিহ্যবাহী খাবারে যুগের পর যুগ ধরে দই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ডা. গাইকওয়াডের মতে, খাবারের সঙ্গে দই খেলে খাবারের পর রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি কমে, খনিজ শোষণ বাড়ে এবং হজম প্রক্রিয়া সহজ হয়।

মিথ ৬: ডায়াবেটিস রোগীদের দই এড়িয়ে চলা উচিত

চিনি ছাড়া সাধারণ দইয়ের গ্লাইসেমিক লোড কম। এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরাও নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে দই খেতে পারেন।

মিথ ৭: সব প্যাকেটজাত দই-ই প্রোবায়োটিক

সব প্যাকেটজাত দইয়ে পর্যাপ্ত জীবিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে না। বাড়িতে তৈরি দই বা যেসব দইয়ে স্পষ্টভাবে ‘প্রোবায়োটিক’ উল্লেখ থাকে, সেগুলোই বেশি উপকারী।

সবশেষে বলা যায়, সঠিক পরিমাণে, তাজা ও সাধারণ দই খেলে এটি হতে পারে অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। অকারণে দই এড়িয়ে না গিয়ে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বোঝা এবং মানসম্মত দই বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

 

সূত্র : এনডিটিভি

আরও পড়ুন