বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ, ২০২৬

থাইল্যান্ডে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু, হচ্ছে গণভোটও

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Voting begins in Thailand for national elections, referendum on constitutional changes
থাইল্যান্ডে ভোটগ্রহণ শুরু/ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডে আজ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির নাগরিকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনী প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না—সে বিষয়ে জনগণের মতামত জানতেই এই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নেও জনগণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন ভূমজাইথাই পার্টিকে রাজতন্ত্র ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়। এই গোষ্ঠীর কাছে দলটি সবচেয়ে পছন্দের এবং প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবেও বিবেচিত।

গত সেপ্টেম্বরে অনুতিন প্রধানমন্ত্রী হন। এর আগে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রার মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক সঠিকভাবে পরিচালনা না করা সংক্রান্ত নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পেতংতার্নকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। পরে অনুতিন অনাস্থা প্রস্তাবের মুখে সংসদ ভেঙে দিয়ে ডিসেম্বরে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় অনুতিন অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে এনেছেন। বিশেষ করে প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে সংঘর্ষকে ঘিরে সৃষ্ট জাতীয়তাবাদী আবেগও তার প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

নির্বাচনের তৃতীয় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পেউ থাই পার্টি। দলটি কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রা সমর্থিত রাজনৈতিক ধারার সর্বশেষ রূপ হিসেবে বিবেচিত। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা থাই রাক থাই পার্টির জনকল্যাণমূলক ও জনপ্রিয় নীতির উত্তরাধিকার দাবি করে দলটি।

পেউ থাই অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন এবং নগদ সহায়তার মতো জনতাবাদী প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনী লড়াইটি মূলত সংস্কারপন্থি, সামরিক-সমর্থিত রক্ষণশীল এবং জনতাবাদী—এই তিন ধারার রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিণত হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে ২০১৭ সালে সামরিক শাসনামলে প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না—সে প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মতে, নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হলে সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো নির্বাচিত নয় এমন প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

অন্যদিকে রক্ষণশীলদের আশঙ্কা, সংবিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ডেকে আনতে পারে। একই সঙ্গে কোনো দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে জোট গঠন ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার ঝুঁকিও রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আরও পড়ুন