
শীতের তীব্রতা কমছে। এরই মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে বাঙালির প্রাণের মেলা— অমর একুশে বইমেলা ২০২৪। বিক্রি বাড়ার পাশাপাশি, বেড়েছে পাঠক-দর্শনার্থীর সংখ্যাও।
গতকাল সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩-৪ টায় মেলা প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করে পাঠক-দর্শনার্থীরা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন চিত্রই চোখে পড়ে। বেলা যতো বেড়েছে দর্শনার্থীদের সংখ্যা চোখে পরার মতো ছিল।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শিশুতোষ বই নিয়ে আলাদা ‘শিশু চত্বর’ রাখা হয়েছে। এদিন মেলায় শিশুদের আধিক্য দেখা গেছে। ছোট্ট সোনামণিরা খেলায় মেতেছে।
বড়রা বই কেনার চেয়ে স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখার প্রতিই সবাই মনোযোগী বেশি। যদিও বই কিনতও দেখা যায়।
রামপুরা থেকে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, আমি প্রতি বছরই বইমেলা ঘুরতে আসি বন্ধুদের নিয়ে। কিছু বই কিনে থাকি। মেলায় আসলে বই পড়ার প্রতিও আগ্রহ বাড়ে।

মায়ের সঙ্গে বইমেলা আসা আরেক দর্শনার্থী ইকরা বিনতে তামান্না। দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এই শিক্ষার্থী জানায়, মেলায় এসে ভালো লাগছে। গল্পের বই দেখছি। এখনো কেনা হয়নি।
এদিকে বইপ্রেমীদের আনাগোনায় বেশ খুশি লেখক-প্রকাশকরা। তারা বলেন, আজ মেলায় জনসমাগম বেশ ভালো দেখা যাচ্ছে। বইপ্রেমীরা আসছেন, বই দেখছেন। সংখ্যায় কম হলেও বই কিনছেন অনেকেই। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পাঠকদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
এবারের বইমেলার সময়সূচি: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না।
ছুটির দিন বইমেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে মেলা শুরু হবে সকাল ৮টা এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

বইমেলায় অংশ নিয়েছে ৬৩৫ প্রতিষ্ঠান: এবারের বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গায়।
একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি ইউনিট অর্থাৎ ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৯৩৭টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৭টি (একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩৬টি) প্যাভিলিয়ন রয়েছে।
বইমেলার বিন্যাস অক্ষুণ্ন, থাকছে আটটি প্রবেশ ও বহির্গমন পথ: এবার বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এদিকে মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে গতবারের মেলার বাহির পথ এবার একটু সরিয়ে মন্দির-গেটের কাছাকাছি স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে আটটি প্রবেশ ও বাহির পথ করা হয়েছে।








