
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার বাজারে প্রতিদিন ভোরে বসে এক দুধের হাট। সকাল ৭টা থেকে ৯টা মাত্র দুই ঘণ্টার এই বাজারে কেনাবেচা হয় প্রায় চার লাখ টাকার দেশীয় জাতের দুধ। স্থানীয় খামারি ও ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সকাল বেলার ব্যস্ততা ও বেচাকেনা প্রতিদিন সকাল হতেই খামারি ও দেশীয় দুধ বিক্রেতারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়েন বাজারের নির্দিষ্ট স্থানে। মাত্র দুই ঘণ্টার এই হাটে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ মণ দুধ বিক্রি হয়। বিক্রেতাদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করতে ভিড় করেন স্থানীয় মিষ্টির দোকানদার, সাধারণ ক্রেতা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররা। বিশেষ করে স্থানীয় মিষ্টি ব্যবসায়ীদের কাছে এখানকার দুধের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
দরদাম ও বাজার পরিস্থিতি বাজারে দুধের দাম সব সময় এক থাকে না, চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তা ওঠানামা করে। সাধারণত প্রতি লিটার দুধ ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও, কখনো কখনো তা ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়। তবে দাম যাই হোক, ক্রেতার অভাব হয় না। সকালের এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় সব দুধ বিক্রি হয়ে যায়।
বিক্রেতাদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যা খামারিরা জানান, একেকজন খামারি প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ কেজি দুধ নিয়ে বাজারে আসেন। সাচার বাজারটি কচুয়া উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার হওয়া সত্ত্বেও এখানে দুধ বিক্রির জন্য কোনো নির্দিষ্ট বা স্থায়ী স্থান (শেড) নেই। ফলে বাধ্য হয়ে বাজারের মধ্যভাগে অস্থায়ীভাবে দাঁড়িয়ে তাদের দুধ বিক্রি করতে হয়। খামারিদের মতে, “সকালে লাইনে দাঁড়িয়ে দুধ বিক্রি করতে হয়, তবে আলহামদুলিল্লাহ ক্রেতার অভাব নেই। দুধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের বিক্রি চলতেই থাকে।”
কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও আশ্বাস সাচার বাজারটি অর্থনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন মজুমদার বলেন, “প্রতিদিন এখানে প্রচুর দুধ বিক্রি হয়। দুধ বিক্রেতাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে বাজারে একটি নির্দিষ্ট শেড বা স্থান নির্ধারণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে, যাতে তারা স্থায়ীভাবে ও স্বাচ্ছন্দ্যে দুধ বিক্রি করতে পারেন।”
এ বিষয়ে সাচার ইউপি’র প্রশাসক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, দেশীয় দুধের জন্য সাচার বাজার বহু দিন ধরেই বিখ্যাত। এ বাজারের ঐতিহ্য রক্ষা এবং ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে দুধ বিক্রির জন্য খুব শীঘ্রই স্থায়ী শেডের ব্যবস্থা করা হবে।









