
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় সিটি গ্রুপের বেঙ্গল পণ্যের এক বিক্রয় প্রতিনিধিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মোঃ রফিকুল ইসলাম রবিন ওরফে রবিন ডাকাত (৩১), যার বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে।
গত ১১ নভেম্বর রাতে ফরিদগঞ্জ থানাধীন রুস্তমপুর এলাকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন সিটি গ্রুপের বেঙ্গল পণ্যের বিক্রয় প্রতিনিধি রুহুল আমিন (৪০)। এই ঘটনায় গত ১৩ নভেম্বর নিহতের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০৪) দায়ের করেন।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে র্যাব। সেই নজরদারি, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে র্যাব-১১ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি রবিন ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত রুহুল আমিন সিটি গ্রুপের বেঙ্গল পণ্যের ফরিদগঞ্জ থানার একজন বিক্রয় প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি প্রতিদিনের মতো ১১ নভেম্বর সকালেও ডিপো থেকে পণ্য নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করেন। রাতে তিনি বিক্রয়লব্ধ অর্থ মোটরসাইকেলযোগে ডিলারের নিকট জমা দিতে যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে গ্রেফতারকৃত আসামি রবিন ও তার সহযোগী পলাতক আসামি ভিকটিম রুহুল আমিনের গতিরোধ করে। তারা তার নিকট থেকে পণ্য বিক্রির নগদ টাকা ছিনতাই করে মোটরসাইকেলযোগে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ভিকটিম রুহুল আমিন সাহসিকতার সাথে তাদের পিছু নেন।
এক পর্যায়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর সাকিনের সমিতি পোলের গোড়া নামক স্থানে রুস্তমপুরগামী পাকা রাস্তার উপর লোকজনের উপস্থিতি দেখে ভিকটিম সাহায্যের জন্য ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করেন। ঠিক তখনই গ্রেফতারকৃত আসামি রবিন উত্তেজিত হয়ে তার কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা রুহুল আমিনকে গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর আসামিরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপন করেছিল।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি রবিন ডাকাত নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার চান্দিরগাঁও গ্রামে।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।









