শনিবার ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

চাঁদপুরে পাসপোর্ট তৈরি করতে এসে ধরা পড়ল দুই রোহিঙ্গা নারী

রাইজিং কুমিল্লা অনলাইন

Rising Cumilla -Two Rohingya women caught trying to make passports in Chandpur
চাঁদপুরে পাসপোর্ট তৈরি করতে এসে ধরা পড়ল দুই রোহিঙ্গা নারী/ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন দুইজন রোহিঙ্গা নারী। গতকাল মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে তাদের আটক করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নতুন পাসপোর্টের জন্য এসবি ক্লিয়ারেন্স বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই চাঁদপুরের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা এক ধরনের ‘রোহিঙ্গা আতঙ্কে’ ভুগছেন। বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। এমন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও গতকাল দুই রোহিঙ্গা নারী ভুয়া এনআইডি দিয়ে পাসপোর্ট করতে এসে এক কর্মকর্তার হাতে ধরা পড়েন।

আটক হওয়া দুই রোহিঙ্গা নারী হলেন, সুরাইয়া (১৮): কক্সবাজারের কুতুপালংয়ের ২ নম্বর ক্যাম্পের ই-১১ ব্লকের বাসিন্দা শহিদুল আলমের মেয়ে ও জুহুরা বেগম (৩৫): একই ক্যাম্পের সোনা আলীর মেয়ে।

আটককৃতদের চাঁদপুর সদর মডেল থানায় নিয়ে আসেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হোসেন। তিনি জানান, ওই দুই নারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের ক্যাম্প এলাকার যুবক দালাল সোহাগের মাধ্যমে তারা চাঁদপুরে পাসপোর্ট করতে এসেছিলেন। তারা চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ঠিকানায় ভুয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করায় শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েন। এসআই আওলাদ হোসেন আরও বলেন, তাদের ভাষা বুঝতে সমস্যা হওয়ায় তথ্য সংগ্রহে কিছুটা জটিলতা হয়েছে।

চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে এই দুই নারী পাসপোর্ট করার উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট অফিসে প্রবেশ করেন। সুরাইয়া পাসপোর্টের জন্য ব্যাংক ড্রাফট, আবেদনসহ অন্যান্য কাগজপত্র জমা দেন। তিনি ভোটার আইডির ভেরিফায়েড কপি ও ফটোকপিও সংযুক্ত করেন। তবে যাচাইকালে দেখা যায়, সরবরাহকৃত এনআইডিটি শাহরাস্তি উপজেলার বাসিন্দা রুমা আক্তারের নামে ইস্যু করা। কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা এই জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন।

জানা যায়, সুরাইয়া ও জুহুরাকে সৌদি আরবে নেওয়ার কথা বলে একজন ব্যক্তি তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। সেই অজ্ঞাত ব্যক্তির মাধ্যমেই তারা পাসপোর্ট তৈরির জন্য এসব জাল কাগজপত্র জোগাড় করেন। তারা দাবি করেন, ওই ব্যক্তিকে তারা চেনেন না।

চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা উত্তম সাহা বলেন, “আসলে আবেদনের মাধ্যমে এ ধরনের রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা কঠিন। তবে চেহারা ও ভাষার মাধ্যমে অনুমান করে আমরা পাসপোর্ট গ্রহীতাদের প্রশ্ন করি। এমন প্রশ্নের মাধ্যমেই অনেক সময় রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।”

উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “এসবি ক্লিয়ারেন্স বন্ধ হওয়ায় আমরা আরও সাবধান হয়েছি। তারপরেও আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। কারণ ফাঁকফোকর দিয়ে রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট নিয়ে যেতে পারে। আমরা এক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করছি।”

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া জানিয়েছেন, যেহেতু আটক দুই নারী বৈধভাবে ওই ক্যাম্পে থাকেন, তাই তাদের আজ (বুধবার, ৫ নভেম্বর) ভোরে থানার কর্মকর্তা ও ফোর্সসহ ওই ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে। ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর ক্যাম্প প্রধান তাদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আরও পড়ুন