
অর্থঋণ আদালতের আলোচিত বিচারক মুজাহিদুর রহমান চাঁদপুর জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। অতিরিক্ত জেলা জজ হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে গত বুধবার তাকে এ পদে নিয়োগ দেয় সরকার। গতকাল রোববার তিনি চাঁদপুরের ১২তম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর আগে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। অর্থঋণ আদালতে দায়িত্ব পালনকালে তার অনেক আদেশ দেশব্যাপী আলোড়ন তৈরি করে। বিশেষ করে প্রচলিত প্রথার বাইরে গিয়ে বড়–বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, বন্ধকি সম্পত্তিতে রিসিভার নিয়োগসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে তিনি আলোচনায় আসেন।
চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতে দায়িত্ব পালনকালে ঋণখেলাপি এএফসি হেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুয়েল খান তার দেওয়া একটি দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ ওই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে ১২ দফা নির্দেশনা দেন। সংশোধিত অর্থঋণ আদালত আইনে এখন সেই নিষেধাজ্ঞার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
মুজাহিদুর রহমান ২০১০ সালে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলায় যোগদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে তার কর্মজীবন শুরু করেন। গত ২৬ নভেম্বর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় তার পদোন্নতির আদেশ জারি করে। পরে তিনি চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহারের কাছে যোগদানপত্র দাখিল করেন।
যোগদানের পর তিনি আদালতের বিভিন্ন এজলাস, খাসকামরা ও প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন। বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি লাঘব ও বিচারিক সেবা সহজ করতে বিভিন্ন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন স্বপন।









