শনিবার ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

চাঁদপুরে ঝুলন্ত সেতু প্রকল্পে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিনিধিদলের পরিদর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - South Korean delegation visits Chandpur suspension bridge project
চাঁদপুরে ঝুলন্ত সেতু প্রকল্পে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিনিধিদলের পরিদর্শন/ ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চাঁদপুর-মুন্সিগঞ্জ সংযোগকারী মতলব–গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। দেশের একমাত্র দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু হিসেবে নির্মাণ হতে যাওয়া এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দিয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান অর্থায়নকারী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানির প্রতিনিধি দল আজ হেলিকপ্টারে প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে। তারা ওপর থেকে পুরো অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করেন এবং কারিগরি ও ভৌত কাঠামোর প্রাথমিক মূল্যায়ন করেন।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ছিলেন বিয়ন, পার্ক, শিন এবং তাঁদের সহকারী দোভাষী মো. বাবলু ভূঁইয়া। পরিদর্শনে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন চাঁদপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. জালাল উদ্দিন।

ব্রিফিংয়ে ড. জালাল উদ্দিন বলেন, ২৭ বছর ধরে এই সেতু বাস্তবায়নের জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আরও অনেকে প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি এটিকে দেশের সবচেয়ে বড় ঝুলন্ত সেতু বলে উল্লেখ করেন।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৪,৭৮৩ কোটি টাকা সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে। প্রস্তাবিত সেতুটি হবে ১.৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল-স্টে ভিত্তিক ঝুলন্ত সেতু।

একটি বিশেষ দিক হলো—দক্ষিণ কোরিয়া নামমাত্র সুদে পুরো নির্মাণ ব্যয় বহন করবে। ড. জালাল উদ্দিন জানান, এ অর্থায়ন প্রতিশ্রুতি শুধু এই প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নয়; ভবিষ্যতেও কোরিয়া বাংলাদেশে আরও বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় সব অর্থায়ন নিশ্চিত হলে আগামী নির্বাচনের পর দলীয় সরকার গঠন সাপেক্ষে সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হবে।

কোরীয় প্রতিনিধি বিয়ন ব্রিফিংয়ে প্রকল্পে তাঁদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এ সেতুটি এ অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—ড. আনিসুল আউয়াল, অধ্যাপক ড. শামীম আহমেদ, ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু এবং আজহারুল হক মুকুল।

আরও পড়ুন