
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আমাদের দৈনন্দিন কাজকে অনেক বেশি সহজ ও দ্রুত করে তুলেছে, যার ব্যবহার এখন সব ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় এবার গুগল ফটোস অ্যাপে যুক্ত হয়েছে একাধিক এআই-চালিত অত্যাধুনিক ফিচার। এই নতুন সংযোজনগুলি ছবি তোলা ও এডিটিংয়ের ধারণায় পরিবর্তন আনতে চলেছে।
প্রায়শই এমনটা হয় ছবি তোলার সময় অসাবধানতাবশত কেউ চোখ বন্ধ করে ফেলেছে, কারো মুখে হাসি নেই, বা কেউ ভুল করে সানগ্লাস পরে ফেলেছে। আগে এই ধরনের ছবিগুলি ঠিক করার জন্য জটিল ও বড় সফটওয়্যারের সাহায্য নিতে হতো।
কিন্তু এখন এই কাজটি সরাসরি গুগল ফটোসেই করা যাবে। ব্যবহারকারী শুধু মুখে বা টেক্সটে কম্যান্ড দেবেন— যেমন, ‘হেল্প মি এডিট’ → ‘রিমুভ সানগ্লাসেস’ বা ‘ওপেন মাই আইস’ বা ‘এডিটেড স্মাইল’।
এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবিটিকে অত্যন্ত প্রাকৃতিকভাবে ও নিখুঁতভাবে ঠিক করে দেবে। এই ফিচারের ফলে এখন ব্যবহারকারী মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ছবিকে ত্রুটিমুক্ত করে তুলতে পারবেন। এর জন্য নতুন করে ছবি তোলার কোনো দরকার পড়বে না। ফলস্বরূপ, পারিবারিক ছবি, ট্রিপ বা বিশেষ দিনের ছবিকে এখন খুব সহজে পারফেক্ট করে তোলা সম্ভব হবে।
গুগলের নিজস্ব ও জনপ্রিয় ইমেজ জেনারেটর ‘ন্যানো বানানা’ এখন সরাসরি গুগল ফটোস অ্যাপে যুক্ত হয়েছে। এই শক্তিশালী এআই কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই একটি সাধারণ ছবিকে নতুন স্টাইল ও আঙ্গিকে সাজিয়ে দেবে।
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, কোনো আলাদা সফটওয়্যার বা উন্নত ডিজাইন স্কিল ছাড়াই ব্যবহারকারীরা সাধারণ ছবি থেকে তৈরি করতে পারবেন কল্পনাপ্রসূত (ইমাজিনারি) ইমেজ বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জন্য আকর্ষণীয় গ্রাফিক্স।
আইওএস ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল নিয়ে এসেছে ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ এডিটিং সুবিধা। এখন ব্যবহারকারী মুখে কম্যান্ড দিলেই এআই ছবি এডিট করে দেবে। এটি এডিটিং প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও অ্যাক্সেসযোগ্য করে তুলবে।
অ্যাপটিতে একটি নতুন ফটো এডিটর ইন্টারফেস আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে টাচ বা জেসচারের সাহায্যেও ছবি এডিটিংয়ের পরিবর্তন আনা যাবে। ফলে যাঁরা এডিটিংয়ে অভ্যস্ত নন, তাঁরাও খুব সহজে ছবিকে নিজের পছন্দমতো সাজিয়ে নিতে পারবেন।
এই নতুন এআই ফিচারগুলির মাধ্যমে গুগল ফটোস এখন আর কেবল ছবি সংরক্ষণের প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি এক শক্তিশালী ফটো এডিটিং স্টুডিও হয়ে উঠেছে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এআই-এর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করবে।










