সোমবার ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬

গবেষণা রিপোর্ট: দেশে গাঁজায় আসক্ত ৬১ লাখ মানুষ, ঢাকায় মাদকসেবী বেশি

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla - drug addict
প্রতীকি ছবি এআই/রাইজিং কুমিল্লা

দেশে বর্তমানে আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ মাদক সেবনে জড়িত, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে গাঁজা সেবনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৬১ লাখ। পাশাপাশি ইয়াবা, অ্যালকোহল, কফ সিরাপ, হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদকের ব্যবহারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেড যৌথভাবে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই গবেষণাটি পরিচালনা করে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়জুড়ে দেশব্যাপী গবেষণাটি সম্পন্ন হয়। এতে দেশের ৮টি বিভাগে ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

কোন বিভাগে মাদক ব্যবহারের হার বেশি

গবেষণায় দেখা গেছে, ময়মনসিংহ (৬.০২%), রংপুর (৬.০০%) এবং চট্টগ্রাম (৫.৫০%) বিভাগে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি। তবে সংখ্যার বিচারে সর্বাধিক মাদক ব্যবহারকারী রয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে আনুমানিক ২২ লাখ ৯০ হাজার মানুষ মাদক সেবনে যুক্ত।

তরুণরাই সবচেয়ে ঝুঁকিতে

গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—মাদকসেবীদের বড় অংশই তরুণ বয়সে মাদকে জড়িয়ে পড়ছে।

  • ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮–১৭ বছর বয়সে

  • ৫৯ শতাংশ ব্যবহারকারী ১৮–২৫ বছর বয়সে
    প্রথমবারের মতো মাদক গ্রহণ শুরু করেছে।

বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপসহ নানা সামাজিক কারণ মাদকাসক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশই জানিয়েছেন, মাদক সহজলভ্য।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে বড় ঘাটতি

গবেষণায় উঠে এসেছে, মাত্র ১৩ শতাংশ মাদকসেবী চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়েছেন। পর্যাপ্ত সেবা না থাকায় অনেকেই মাদক ছাড়তে ব্যর্থ হচ্ছেন।
এদিকে,

  • ৬৯ শতাংশ মাদকসেবী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা

  • ৬২ শতাংশ কাউন্সেলিং সেবা চেয়েছেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, “মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি জটিল জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সমস্যা। রাজনৈতিক সংকল্প এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এর কার্যকর সমাধান সম্ভব।”

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, “বর্তমানে দেশের মানুষের মধ্যে মাদকাসক্তির ঝুঁকি বেড়েছে। সরকার ইতোমধ্যে ৭ বিভাগে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর অনুমোদন দিয়েছে। পরিবার থেকে শুরু করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদক নির্মূল নিশ্চিত করতে হবে।”

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই গবেষণার ফলাফল দেশের মাদকবিরোধী নীতি প্রণয়ন ও কার্যক্রম জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

আরও পড়ুন