
মাত্র ১৬ বছর বয়সেই বিনোদন দুনিয়ায় আলোড়ন তোলেন অভিনেত্রী রিয়া সেন। জনপ্রিয় শিল্পী ফাল্গুনী পাঠকের ‘ইয়াদ পিয়া কি আনে লগি’ গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ের মাধ্যমে রাতারাতি পরিচিতি পান তিনি। এরপর ১৯৯৯ সালে তামিল সিনেমা ‘তাজমহল’ দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার।
দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি অভিনয় করেছেন ৩০টিরও বেশি সিনেমায়। ‘স্টাইল’, ‘কেয়ামত’, ‘ঝংকার বিটস’, ‘শাদি নাম্বার ওয়ান’, ‘আপনা সাপনা মানি মানি’—এমন একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। এমনকি বাংলাদেশের সিনেমাতেও দেখা গেছে তাকে। এক সময় মনে করা হচ্ছিল—বলিউডের প্রথম সারির তরুণ অভিনেত্রীদের কাতারে স্থায়ী জায়গা করে নেবেন তিনি।
তবে সফলতার মধ্যেই আসে ছন্দপতন। ২০০৫ সালে রিয়া সেনের ব্যক্তিগত একটি ভিডিও ফাঁস হলে বলিপাড়ায় শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। ওই ঘটনার পর অনেক সিনেমার প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায় বলে জানা যায়। ধীরে ধীরে কাজ কমে আসতে থাকে এবং আর আগের অবস্থানে ফেরা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি মূলত পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করছেন। চলতি বছর তাকে দেখা গেছে হিন্দি সিনেমা ‘নাদানিয়া’-তে। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার ওয়েব সিরিজ ‘পরিণীতা’।
সম্প্রতি পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ার থমকে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন রিয়া সেন। তিনি বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে কাজ নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী থাকলেও দ্রুত বুঝতে পারেন—তিনি যে ধরনের চরিত্র করছেন, সেগুলো তার সঙ্গে মানানসই নয়।
রিয়ার ভাষায়, সে সময় বলিউডে সবকিছুই গ্ল্যামারনির্ভর ছিল—পোশাক, মেকআপ ও সাহসী ইমেজ ধরে রাখার প্রচণ্ড চাপ ছিল। অল্প বয়সেই ‘বোল্ড অভিনেত্রী’র তকমা তার ওপর মানসিক প্রভাব ফেলে। তখনো তিনি স্কুলে পড়তেন, অথচ নিয়মিতভাবে তাকে লেবেল দেওয়া হচ্ছিল। এই চাপ একসময় তাকে ক্লান্ত করে তোলে এবং সচেতন সিদ্ধান্ত হিসেবেই তিনি বলিউডের কাজ কমিয়ে দেন।
রিয়া সেনের ভাষায়, যা বলিউড ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতি হয়েছিল, সেটাই বাংলা সিনেমার জন্য হয়ে ওঠে আশীর্বাদ। ২০১১ সালে বিশিষ্ট নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষ–এর ‘নৌকাডুবি’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নতুনভাবে নিজেকে মেলে ধরেন তিনি। এরপর ‘জাতিস্মর’, ‘হিরো ৪২০’সহ একাধিক সিনেমায় কাজ করে নিজের অভিনয়ক্ষমতার প্রমাণ দেন।
তিনি বলেন, বাংলা সিনেমায় তিনি নিজের মতো করে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এখানকার পরিচালকরা বুঝেছেন—একজন অভিনেত্রী হিসেবে তিনি কী দিতে পারেন।
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের উত্থান রিয়ার ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ‘রাগিণী এমএমএস: রিটার্নস’, ‘পয়জন’, ‘মিসম্যাচ’-এর মতো ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও পরিচিত হন তিনি। রিয়া মনে করেন, ওটিটি তাকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছে এবং এই মাধ্যমেই তিনি নিজেকে সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
উল্লেখ্য, রিয়া সেন পারিবারিকভাবেই অভিনয়ের সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার বহন করেন। তিনি কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন–এর নাতনি এবং অভিনেত্রী মুনমুন সেন–এর কন্যা।










