
কুমিল্লা নগরীর হাউজিং এলাকার একটি মহিলা মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা সালমানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজ বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্ত্রী ও শ্যালককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত সালমান (৩৯) হাউজিং এস্টেটের ৪ নম্বর সেকশনে অবস্থিত জান্নাতুন নাঈম মহিলা মাদরাসার প্রিন্সিপাল ছিলেন। তাঁর বাড়ি লালমাই উপজেলার দাপাড় গ্রামে। তিনি মাওলানা আব্দুর রহমানের বড় ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে বাসায় তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। মৃত্যুর পর জানাজার প্রস্তুতি চলছিল। তবে মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ দেখা দিলে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহ দাফন স্থগিত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
নিহতের ছোট ভাই ইহসান অভিযোগ করেন, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়; এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে কুমিল্লার শীর্ষ আলেমেদ্বীন মুফতি শামছুল ইসলাম জিলানী বলেন, এমন নরম ও বিনয়ী একজন আলেমের মৃত্যু রহস্যজনক। এটি পরিকল্পিত হত্যা হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকলে খুনিদের বিচার দাবি করেন তিনি। বিচার নিয়ে টালবাহানা হলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন।
লালমাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে। প্রাথমিক তদন্তের স্বার্থে নিহতের স্ত্রী জান্নাত ও শ্যালক মাহমুদুল্লাহকে থানায় নেওয়া হয়েছে।









