মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কুমিল্লার চান্দিনায় আগুনে পুড়ল ৯টি বসতঘর, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা

ওসমান গনি, চান্দিনা প্রতিনিধি

Rising Cumilla - 9 houses burnt in fire in Chandina, Comilla, causing damage worth around Tk 3.5 million
কুমিল্লার চান্দিনায় আগুনে পুড়ল ৯টি বসতঘর, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা

কুমিল্লার চান্দিনায় গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল একের পর এক ঘর। এতে সর্বস্বান্ত ছয়টি পরিবার। তাদের চিৎকার-আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক কালবেলার চান্দিনা প্রতিনিধি আকিবুল ইসলাম হারেছ।

আগুনে ৬টি বসতঘর ও ৩টি পাকাঘর ভস্মীভূত হয়। একটি ভবনের দরজা-জানালা পুড়ে যায় এবং পাশের আরেকটি ভবনের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরের আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-সবকিছু মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে একটি ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি। তবে অল্প সময়ের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী পানি ও বালু দিয়ে আগুন নেভানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতার কাছে তারা অসহায় হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে সর্বনাশ যা হওয়ার হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আকিবুল ইসলাম হারেছ বলেন, ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখি আগুন পুরো ঘর গ্রাস করেছে। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, আসবাব-কিছুই বের করতে পারিনি। চোখের সামনে সব পুড়ে গেল।

অন্য ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, তাঁদের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি ও সঞ্চয় মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ইমাম পাটোয়ারী জানান- প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি- এতে আনুমানিক প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।

চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি জানার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন