
কুমিল্লা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড)-এর নাসা গ্রুপের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা রবিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধ এবং কর্মস্থলে ফেরার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকরা প্রথমে ইপিজেডের ১নম্বর ফটকের সামনে জড়ো হন এবং পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। কর্মসূচি দুপুর পর্যন্ত চলে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক মনির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরারে বেতন দিতে কন, পোলা-মাইয়া না খাইয়া আছে। নাসা গ্রুপের মালিক আইয়া সমাধান করুক। বেপজা লোকেরা শুধু শান্তনার কথা কয়।”
শ্রমিক শিউলি আক্তার বলেন, “ঘরভাড়া দিতে পারতেছি না। অনেকদিন চুলায় আগুন জ্বলে না। পাওনা ছাড়া ঘরে ফিরব না।”
বেপজার জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল মাহবুব জানান, শ্রমিকদের কষ্ট আমরা জানি এবং তাদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। নাসা গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মেজর আব্দুল হাফিজ বলেন, “৩০ নভেম্বরের মধ্যে বেতন-ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও কোম্পানি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারপরও শ্রমিকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। সমস্যার সমাধানে কাজ চলছে।”
নাসা গ্রুপের মধ্যে নাসা স্পিনিং লিমিটেড, নাসা স্পিনারসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ধীরে ধীরে উৎপাদন কমাতে শুরু করে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘বন্ধ’ ঘোষণা করা হলেও শ্রমিকদের কয়েক মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া থেকে যায়। শ্রমিকদের অভিযোগ, বহুবার সময় নেওয়ার পরও মালিকপক্ষ পাওনা পরিশোধে কোনো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানায়নি। এর মধ্যে গত ২৯ নভেম্বর কোম্পানির নতুন একটি নোটিশ প্রকাশ হওয়ার পর ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। শ্রমিকদের দাবি, নোটিশে বকেয়া পরিশোধের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।









