
কুমিল্লার চান্দিনায় মায়ের বান্ধবী পরিচয় দিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর তার শরীরের স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কার লুটে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ছায়কোট এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশু জান্নাত ছায়কোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সফিকুল ইসলামের মেয়ে। সে তার নানা তাজুল ইসলামের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত।
ঘটনার দিন স্কুল ছুটি শেষে দুপুর ১২টার দিকে জান্নাত তার সহপাঠীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে ছায়কোট আলীর মোড় এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা তাদের সামনে এসে থামে এবং ভেতর থেকে বোরকা পরিহিত এক নারী জান্নাতকে তার মায়ের বান্ধবী পরিচয় দিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। জান্নাত প্রথমে রাজি না হলেও ওই নারী তাকে উপহারের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেন। সহপাঠীরা বাড়ি ফিরলেও জান্নাত না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং পরে সহপাঠীদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে পারেন।
অপহরণের প্রায় তিন ঘণ্টা পর ছায়কোট থেকে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার দূরে বরকইট বাজার এলাকায় শিশুটিকে রাস্তার পাশে কাঁদতে দেখেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শী সারওয়ার সোহেল ও স্থানীয়রা শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তার পরিবারের সন্ধান পান এবং তাকে স্বজনদের হাতে তুলে দেন। ততক্ষণে ছিনতাইকারী চক্রটি জান্নাতের কানের স্বর্ণের দুল ও পায়ের রূপার নূপুর ছিনিয়ে নিয়ে তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, একটি নির্দিষ্ট চক্র দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের টার্গেট করে এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান যে, চক্রটি গত কয়েক মাস ধরে এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।










