
কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ উপজেলা, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা) সংসদীয় আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর বাদুরতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, দলীয় চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাজী ইয়াসিন জানান, তিনি সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন। দুপুরে কুমিল্লা নগরের ধর্মসাগরপাড় এলাকায় তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যালয় থেকেও তিনি একই ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “সকালে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বাইরে থাকায় তা সম্ভব হয়নি। বিকেল পাঁচটার মধ্যেই প্রত্যাহার সম্পন্ন করা হবে।”
হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন বলেন, “আমি কুমিল্লা-৬ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমি জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছি, তাই নির্বাচন আমার কাছে অর্থবহ ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ৩৩ বছর ধরে এই দল করি। দলের চেয়ারপারসন আমাকে ডেকে আগামী নির্বাচনে সহযোগিতার কথা বলেন এবং কুমিল্লার ছয়টি সংসদীয় আসনের সমন্বয়কের দায়িত্ব দেন। আমি দল করি দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য, দলের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য। উনার প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ থেকেই আমি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিনকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সব সংসদীয় আসনে বিএনপির নির্বাচনী সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ মার্চ হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হলেন মো. মনিরুল হক চৌধুরী। হাজী ইয়াসিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলেন।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “কুমিল্লার ইতিহাসে আজ আমরা কালের সাক্ষী হয়ে গেলাম। বিভিন্ন সময়ে যে বিভাজন ছিল, তা আজ সমাধান হয়েছে। তার (ইয়াছিন) সঙ্গে আমার একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই সমঝোতা কুমিল্লার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। আমরা কুমিল্লাকে স্বাধীনতার পর যেভাবে এগিয়ে নেওয়ার কথা ছিল, তা পারিনি। আজকের এই ঐক্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। হাজী ইয়াছিনসহ জেলা ও মহানগরের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কুমিল্লাকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন, বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল হক ভূঁইয়া স্বপন, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজিব, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান।










