সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

কুমিল্লায় দেশের প্রথম স্বয়ংক্রিয় জ্বালানি বিপণন ডিপোর যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Country's first automated fuel marketing depot begins its journey in Comilla
কুমিল্লায় দেশের প্রথম স্বয়ংক্রিয় জ্বালানি বিপণন ডিপোর যাত্রা শুরু/ছবি: প্রতিনিধি

দেশে প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) জ্বালানি বিপণন ডিপোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে কুমিল্লায়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) উদ্যোগে চালু হওয়া এই আধুনিক ডিপো থেকে কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও নোয়াখালী জেলায় পেট্রোলিয়াম জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বরুড়া উপজেলার কুমিল্লা–চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক-সংলগ্ন মগবাড়ি এলাকায় ডিপোটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় পরিচালিত এই ডিপোর মাধ্যমে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয় হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম অটোমেটেড পেট্রোলিয়াম ডিপোর যাত্রা শুরু হলো, যা জ্বালানি খাতে একটি নতুন মাইলফলক। তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ধরনের হাতের স্পর্শ ছাড়াই জ্বালানি গ্রহণ, মজুত ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর ফলে কুমিল্লা ও আশপাশের জেলাগুলোয় দ্রুত সময়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ডিপো নির্মাণ করা হয়েছে। এই ডিপো থেকে ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ করবে তিনটি বিপণন কোম্পানি—পদ্মা অয়েল পিএলসি, মেঘনা অয়েল পিএলসি ও যমুনা অয়েল পিএলসি। পুরো ডিপোর অপারেশনাল তত্ত্বাবধানে থাকবে পদ্মা অয়েল পিএলসি।

চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনা থেকে ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরাসরি এই ডিপোয় সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পাইপলাইনটি চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে স্থাপন করা হয়েছে।

১৬ একরের বেশি জায়গাজুড়ে স্থাপিত কুমিল্লা ডিপোতে একসঙ্গে প্রায় ২০ হাজার টন ডিজেল, দেড় হাজার টন পেট্রল ও দেড় হাজার টন অকটেন মজুতের সক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া, একসঙ্গে ৪০টি ট্যাংকলরি ধারণক্ষমতার পার্কিং এলাকা এবং ১২টি আধুনিক লোডিং বে-সংবলিত ফিলিং পয়েন্ট থেকে জ্বালানি বিতরণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল ইসলাম খাঁন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিচালক (অপারেশনস ও পরিকল্পনা) এ কে এম আজাদুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ এবং কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন