
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ও জোড়কানন পশ্চিম ইউনিয়নে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট মো. শফিকুল ইসলাম ও পরিদর্শক জোবায়ের হোসেন। অভিযানে আরও অংশ নেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
অভিযানকালে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে আবাদযোগ্য কৃষিজমির মাটি সংগ্রহের অভিযোগে তিনটি ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে বারপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল আজিজ ব্রিকসকে ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা, জোড়কানন পশ্চিম ইউনিয়নের কেসিএল ব্রিকসকে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা এবং চৌধুরী ব্রিকসকে ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা জরিমানা করা হয়।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ৫(১) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
“আপাতত বলবৎ অন্য আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করিবার উদ্দেশ্যে কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা হইতে মাটি কাটিয়া বা সংগ্রহ করিয়া ইটের কাঁচামাল হিসাবে উহা ব্যবহার করিতে পারিবেন না।”
এছাড়া একই আইনের ১৫(১) ধারায় বলা হয়েছে—
যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৫-এর
(ক) উপ-ধারা (১)-এর বিধান লঙ্ঘন করে ইট প্রস্তুতের উদ্দেশ্যে কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কাটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করেন; অথবা
(খ) উপ-ধারা (২)-এর বিধান লঙ্ঘন করে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন ছাড়া ইট প্রস্তুতের উদ্দেশ্যে মজা পুকুর, খাল, বিল, খাঁড়ি, দিঘি, নদ-নদী, হাওর-বাওর, চরাঞ্চল কিংবা পতিত জায়গা থেকে মাটি কাটেন বা সংগ্রহ করেন—
তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক দুই (২) বছরের কারাদণ্ড অথবা অনধিক পাঁচ (৫) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
কৃষিজমির উর্বরতা ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে উপজেলা প্রশাসন সদর দক্ষিণ কৃষিজমির মাটি রক্ষার্থে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।









