
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বছর এ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯২ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৪ হাজার ২৭২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম রাইজিং কুমিল্লাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার পাসের হারে ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। পাশাপাশি বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯২ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৩৬ হাজার ৭২৮ জন ছেলে এবং ৫৫ হাজার ৪৩৪ জন মেয়ে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৪ হাজার ২৭২ জন। এর মধ্যে ছেলে ১৫ হাজার ৮৫৭ জন এবং মেয়ে ২৮ হাজার ৪১৫ জন।
ফলাফলে ছেলেদের পাসের হার ৪৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে মেয়েদের পাসের হার ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা—উভয় ক্ষেত্রেই ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের অধীনে ৪৫৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৯৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৭ হাজার ৮ ৯০ জন অকৃতকার্য হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪০ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে ৪১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কুমিল্লায় পাসের হার সর্বোচ্চ ৫৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। ফেনীতে ৫২ দশমিক ১৬ শতাংশ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫০ দশমিক ১৫ শতাংশ, চাঁদপুরে ৪৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ, লক্ষ্মীপুরে ৪১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং নোয়াখালীতে ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হয়েছে। নিচের শ্রেণিগুলো থেকে এসব বিষয়ে মৌলিক ধারণা বা ভিত্তি পরিষ্কার না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভালো করতে পারেনি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আরও সচেতন হতে হবে।
এদিকে, সারা দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। ৮ আগস্ট পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় লাগে। পরে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষাও শেষ করা হয়।
এ বছর সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
পরীক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও ফলাফল জানতে পারবেন। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে HSC লিখে একটি স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং আরেকটি স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি খুদে বার্তায় ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।







