
ধনাঢ্য মার্কিন ব্যবসায়ী জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই কিশোরী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন শোষণ এবং পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠে আসছিল। প্রথমবার ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এক কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। তবে সে সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও আইনি কৌশলের মাধ্যমে তিনি বড় ধরনের সাজা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হন।
এরপর দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর ২০১৯ সালে আবারও অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এপস্টেইন। কিন্তু বিচার শুরুর আগেই নিউইয়র্কের কারাগারে তার রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। সরকারি ভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও, এ ঘটনায় শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়।
এপস্টেইন ফাইলস কী?
এপস্টেইনের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার বিভিন্ন সম্পত্তিতে অভিযান চালায় মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র, ই-মেইল, ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করা হয়। এইসব তথ্য ও প্রমাণসমূহই পরিচিতি পেয়েছে ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে এসব ফাইলের একটি বড় অংশ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত নথিতে রয়েছে প্রায় ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা, এক লাখ ৮০ হাজারের মতো ছবি এবং প্রায় ২ হাজার ভিডিও। এসব তথ্য এপস্টেইনের মানি-লন্ডারিং, যৌন পাচার ও অপরাধ নেটওয়ার্কের বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে।
নথিপত্রে কী উঠে এসেছে?
এপস্টেইন ফাইলসে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—
কারাগারে থাকা অবস্থায় এপস্টেইনের মানসিক মূল্যায়নের রিপোর্ট
তার মৃত্যুর পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট রহস্যজনক তথ্য
তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্ত, বিচার ও দোষ স্বীকারের নথি
বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এপস্টেইনের ই-মেইল ও যোগাযোগের প্রমাণ
এসব নথিপত্রে দেখা যায়, গুরুতর আইনি ঝুঁকির মধ্যেও এপস্টেইন বহু ক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।
রাজনীতি ও সমাজে প্রভাব
এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশের পর মার্কিন রাজনীতি ও সমাজে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এসব নথিতে অনেক প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যা গোটা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একজন ব্যক্তির যৌন অপরাধের কাহিনি নয়; বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, নৈতিক অধঃপতন এবং আইনের অসাম্যের এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি।










