
শীতের মৌসুমে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে অনেকেই হালকা গরম বা কুসুম গরম পানি পান করেন। তবে এই অভ্যাস শরীরের জন্য আদৌ ভালো নাকি ক্ষতিকর—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে দ্বিধা। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত কী, তা জানতেই আজকের এই প্রতিবেদন।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (NCBI)-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, শীত কিংবা গ্রীষ্ম—কোনো মৌসুমেই কুসুম গরম পানি পান করার ক্ষতিকর দিক নেই। বরং নিয়ম মেনে পান করলে এর রয়েছে নানাবিধ উপকারিতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত গরম পানি পান করা ঠিক নয়। তবে ঈষদুষ্ণ বা কুসুম গরম পানি শরীরের জন্য নিরাপদ এবং উপকারী। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তি এমনকি গর্ভাবস্থায় থাকা নারীরাও এই উপকারিতা পেতে পারেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত কুসুম গরম পানি পান করলে শরীরের মেটাবলিজম বাড়ে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক, ব্লাড সার্কুলেশন উন্নত করে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি বুকব্যথা, সর্দি-কাশি হওয়ার আশঙ্কাও কমে। বন্ধ নাক খুলে যেতেও সাহায্য করে কুসুম গরম পানি।
এছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে শরীর পরিষ্কার করে বিষাক্ত টক্সিন বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই অভ্যাস। এর ফলে ত্বক থাকে উজ্জ্বল ও সতেজ। ত্বকে বয়সের ছাপ বা বলিরেখা পড়ার প্রবণতাও কমে যায়।
যারা নিয়মিত দুশ্চিন্তায় ভোগেন, ঠিক সময়ে ঘুমাতে পারেন না কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন—তাদের জন্যও কুসুম গরম পানি পান উপকারী হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এক মাস এই অভ্যাস বজায় রাখলেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে।
শুধু তাই নয়, চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও কুসুম গরম পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গরম আবহাওয়ার কারণে যারা এতদিন এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেননি, তাদের জন্য শীতকালই হতে পারে উপযুক্ত সময়।
সূত্র : এই সময়










