মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

এলপি গ্যাস আমদানিতে ২৭০ দিনের ঋণ সুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla - LPG
ছবি: সংগৃহীত

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের প্রেক্ষাপটে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিকারকদের জন্য ঋণ সুবিধা সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে সরবরাহকারী বা ক্রেতার ঋণ (সাপ্লায়ার্স বা বায়ার্স ক্রেডিট) সুবিধা পাওয়া যাবে। এর ফলে আমদানিকারকরা সর্বোচ্চ ২৭০ দিন মেয়াদে বাকিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা পাবেন।

সোমবার (১২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, এলপিজি সাধারণত বাল্ক বা বৃহৎ পরিমাণে আমদানি করা হয় এবং পরে সিলিন্ডারে ভরে বাজারজাত করা হয়। এ পুরো প্রক্রিয়ায় মজুত, সিলিন্ডারজাতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় এলপিজিকে বাণিজ্যিক ঋণের ক্ষেত্রে শিল্প কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বিধিমালা অনুযায়ী, শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত সরবরাহকারী বা ক্রেতার ঋণ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে এখন থেকে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রেও একই মেয়াদে ঋণ সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রেতার ঋণ বা বায়ার্স ক্রেডিটের ব্যবস্থা করতে পারবে। পাশাপাশি অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও দেওয়া যাবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে এলপিজি আমদানিকারকেরা দীর্ঘ মেয়াদে অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাবেন এবং আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এখন থেকে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে বা ঋণের ভিত্তিতে এলপিজি আমদানি করা সম্ভব হবে।

এদিকে সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আকারভেদে ৩৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।

বিশেষ করে বাসাবাড়ি এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

আরও পড়ুন