
খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই যেন থমকে যায় তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আর নেই—এমন ঘোষণার পর মুহূর্তেই শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো ইরানে।
রবিবার (১ মার্চ) সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি আনুষ্ঠানিকভাবে তার শাহাদাত বরণের খবর নিশ্চিত করে। জানানো হয়, শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, খামেনি তার দপ্তরে নির্ধারিত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় হামলার শিকার হন।
খবরটি প্রকাশের পর থেকেই রাজধানী তেহরানসহ পুরো দেশজুড়ে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সড়কে নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। রয়টার্স-এর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, শোকার্ত জনতা কালো পোশাক পরে রাস্তায় জড়ো হয়েছেন। অনেককে উচ্চস্বরে বিলাপ করতে ও কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। অনেকে খামেনির ছবি বুকে জড়িয়ে মাতম করেন।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং খামেনির স্মরণে ইরান সরকার দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে খামেনির মৃত্যু নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। তেহরানের রাজপথে বিক্ষোভকারীদের হাতে ইরানের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি কালো পতাকা ও খামেনির প্রতিকৃতি দেখা গেছে। অনেক পুরুষকে মাথায় হাত দিয়ে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকতে কিংবা আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করতে দেখা যায়।
ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সকল ছবি সূত্র: রয়টার্স
সংবাদ সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি







