বুধবার ১১ মার্চ, ২০২৬

ইউক্রেন সেনাবাহিনীতে অনুমতি ছাড়াই অনুপস্থিত প্রায় ২ লাখ সেনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Rising Cumilla - Ukraine's newly appointed Defense Minister Mykhailo Fedorov
ইউক্রেনের নবনিযুক্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরভ/ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীতে ভয়াবহ জনবল সংকটের চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। দেশটির নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ২ লাখ সেনা অনুমতি ছাড়াই দায়িত্ব থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন। সামরিক পরিভাষায় একে বলা হয় ‘এডব্লিউওএল’।

বুধবার ইউক্রেনের পার্লামেন্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদনের আগে দেওয়া বক্তব্যে ফেদোরভ আরও জানান, সামরিক দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় ২০ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিককে ‘খোঁজ করা হচ্ছে’ বা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ইউক্রেনের সেনাবাহিনী তীব্র চাপে রয়েছে। রাশিয়ার মতো বৃহৎ ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে সেনাদের ওপর প্রবল মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের সামনের সারিতে পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন।

অনেক ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত অস্ত্র ও সীমিত সংখ্যক সেনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখতে হচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সেনাদের মনোবল কমে যাওয়া ও পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও, এই প্রথম কোনো শীর্ষ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা প্রকাশ্যে সমস্যার প্রকৃত মাত্রা স্বীকার করলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের আইনে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সব পুরুষকে সামরিক বাহিনীতে নিবন্ধন করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সব সময় সঙ্গে রাখতে হয়। তবে এই বয়সসীমার মধ্যে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সীদেরই মোবিলাইজেশনের আওতায় ডাকা হয়।

বর্তমানে জারি থাকা সামরিক আইনের কারণে ২৩ থেকে ৬০ বছর বয়সী সামরিক সেবার যোগ্য কোনো পুরুষ দেশ ছাড়তে পারেন না। তবুও আইন অমান্য করে কয়েক দশ হাজার মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, দেশের সামরিক সদস্য সংগ্রহ বা মোবিলাইজেশন প্রক্রিয়ায় আরও বড় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

মিখাইলো ফেদোরভ ইউক্রেনের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আগামী সপ্তাহে তার বয়স হবে ৩৫ বছর। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ডেনিস শ্মিহালের স্থলাভিষিক্ত হয়ে।

এরপর ডেনিস শ্মিহাল ইউক্রেনের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী এবং জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

এর আগে ফেদোরভ ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ও ডিজিটাল রূপান্তরমন্ত্রী ছিলেন। ওই সময়ে তিনি দেশের সফল ড্রোন যুদ্ধ প্রকল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ তদারকি করেন।

বুধবার বক্তব্যে তিনি বলেন, সেনা সংকটের কারণে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ফেদোরভ বলেন, “যত বেশি রোবট ব্যবহার করা যাবে, তত কম ক্ষয়ক্ষতি হবে। যত বেশি প্রযুক্তি থাকবে, তত কম মানুষ মারা যাবে। ইউক্রেনের বীর সেনাদের জীবনই সবচেয়ে মূল্যবান।”

তিনি জানান, বর্তমানে ইউক্রেনে ৫০০টি কোম্পানি ড্রোন তৈরি করছে, ২০০টি প্রতিষ্ঠান জ্যামিং সরঞ্জাম উৎপাদন করছে এবং ২০টির বেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, নতুন দায়িত্বে ফেদোরভের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।

 

সূত্র : সিএনএন

আরও পড়ুন