
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহবুব আলম খান।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আদেশ পান।
ওই আদেশে পাওয়ার পরই ঘটে বিপত্তি। তার যোগদান ঠেকাতে একটি মহলের শুরু হয় অপতৎপরতা। আদেশ পেয়েও চান্দিনার সন্তান হিসেবে পুলিশ সুপার পদে দায়িত্বপালনে বাঁধাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
ফেনীর পুলিশ সুপার হিসেবে মো. মাহবুব আলম খানকে নিযুক্ত না করার দাবি জানিয়ে তাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যাদিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. সেতাউর রহমান।
তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশের কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে পুলিশ সুপার মাহবুব আলম এর বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের মামলা সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনেন। ওই অভিযোগ গুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা আমলে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যুবদল, ছাত্রদল ও জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের উপর নির্মম অত্যাচারের কথা প্রকাশ করা হয়। এসব ঘটনা উল্লেখ করে আওয়ামী সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে ২টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তবে ওই মামলাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেন পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান।
তিনি বলেন- আমার বিরুদ্ধে আনিত ২টি অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। মূলত আমার পূর্ববর্তী কর্মস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোন একটি মহলের ষড়যন্ত্রে এসব মিথ্যা মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী মো. সেতাউর রহমানের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে আমি ২০১৬ সালের ১৭ আগষ্ট তার ভাইকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাই। প্রকৃতপক্ষে আমি তার তিনদিন আগে ১৪ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় ৩০তম পুলিশ ফাইনেন্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সার্টিফিকেট কোর্সে অংশ গ্রহণ করি। বর্তমানে ওই মামলায় আমার অবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষমও হয়েছি। খুব শীঘ্রই মামলাটি থেকে আমি অব্যাহতি পাবো। অপর একটি মামলায় আমার কোন সংশ্লিষ্ট না থাকায় আমাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
এসপি মাহবুব দাবি করেন- আমি চাকুরীতে যোগদান করার পর থেকে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক আমার উপর সরকারি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করার চেষ্টা করে আসছি। আমার কাজে ঈর্ষান্বিত হয়ে কোন একটি কুচক্রি মহল আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আমি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
এদিকে, ওইসব মামলার নানা নথি ও তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান এর যাবতীয় নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে প্রকৃতপক্ষে ঘটনার দিন ও সময়ে তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন না এবং তার কোন সংশ্লিষ্টতার প্রদানও মিলেনি।
অপরদিকে, চান্দিনা উপজেলা বিএনপি নেতা সফিকুর রহমান বলেন- এসপি মাহবুব আলম খান চান্দিনার গর্ব। তার পিতা একজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক ছিলেন। আমরা যখন শুনেছি তাকে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োজিত করা হচ্ছে, ওই কথা শুনার পর আমরা আনন্দিত হই। যখনই এমন মিথ্যা অপপ্রচার বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাতে আমরা বিভ্রান্তিতে পরি এবং তাকে দায়িত্ব না দেয়ায় আমরা হত্যাশাগ্রস্থ।
ছয়ঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার মাকসুদুল হাসান জানান- চান্দিনার সন্তান একটি জেলার পুলিশ সুপার এমন কথা শুনে আমরা গর্বিত হই। মাহবুব আলম খান এর মতো এমন নিষ্ঠাবান ছেলের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
মাইজখার ইউনিয়নের ভোমরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান- মাহবুব আলম খানকে আমরা ছাত্রজীবন থেকে চিনি। সে ছাত্রজীবনে এলাকায় ছাত্রদলের সাথে যুক্ত ছিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যায়ণরত অবস্থায় সহিদুল্লাহ হলের ছাত্রদল কমিটির সদস্য ছিল। এলাকায় শিক্ষায় অধিক মনোযোগী পরিবারের সন্তান মাহবুব। তাকে পুলিশ সুপার হিসেবে নিযুক্ত না করা সম্পূর্ণ বৈষম্য।
মাইজখার ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাসান মাহমুদ হানিফ জানান- মাহবুব আলম ছাত্র জীবন থেকে জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শে রাজনীতি করে আসছিল। তিনি চাকুরীতে যোগদানের পর রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তিনি বিভিন্ন ভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
এ বিষয়ে জানতে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।









