
বিজয়ের পথ ধরে আমাদের দেশ হোক শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন—যেখানে মানুষের ঘাম ও শ্রম আর কোনো গোষ্ঠীর লুণ্ঠনের হাতিয়ার হবে না, যেখানে রাষ্ট্র কারও বিশেষ সুবিধার রক্ষাকবচ নয়, বরং সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতকারী শক্তি হয়ে উঠবে। সন্ত্রাস ও ভয়ভীতির রাজনীতি নয়, বরং সহাবস্থান, সহনশীলতা ও মানবিকতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হোক এই ভূখণ্ডে।
এই দেশে অনিয়ম ও দুর্নীতি যেন আর স্বাভাবিক বাস্তবতা না থাকে; ক্ষমতার অপব্যবহার, লুটপাট আর জবাবদিহিহীনতার সংস্কৃতি ভেঙে পড়ুক। আইন হোক সবার জন্য সমান—ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের জন্য একই মানদণ্ডে প্রযোজ্য। ন্যায়বিচার হোক দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভীক।
মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার হোক বিজয় দিবসের শপথ—যেখানে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের পথে নয়, জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়া-মহল্লা ও সমাজজীবন হোক নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশের প্রতিচ্ছবি।
বিজয়ের চেতনায় গড়ে উঠুক এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ রাষ্ট্রকে ভয় পাবে না, বরং রাষ্ট্র হবে মানুষের আস্থার জায়গা। যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ঘৃণা, দমন ও সহিংসতার কোনো স্থান থাকবে না।
যে বাংলাদেশে ক্ষমতা নয়, মানুষই হবে রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দু; যেখানে ইতিহাসের গৌরব স্মরণ করা হবে দায়বদ্ধতার সঙ্গে, আর ভবিষ্যৎ নির্মাণ হবে ন্যায়, সাহস ও সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে। বিজয়ের চেতনা তখনই অর্থবহ হবে, যখন প্রতিটি নাগরিক সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারবে, কথা বলতে পারবে ভয় ছাড়া, আর স্বপ্ন দেখতে পারবে নিশ্চিন্তে।
মহান বিজয় দিবসে এই হোক আমাদের শেষ ও দৃঢ় অঙ্গীকার—স্বাধীনতাকে কেবল স্মৃতিতে নয়, বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠা করা; শোষণ, সন্ত্রাস, অনিয়ম, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সত্যিকারের স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
লেখক: মোঃ রায়হানুল বারি রাসেল,
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।









