
দেশের বিভিন্ন স্থানে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা শিশু হাসপাতালগুলো দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল।
রোববার (১০ মে) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জানান, অব্যবহৃত ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত পরিদর্শন করে চালুর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে আগামী ২ জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিতেও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু এবং রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে প্রায় তিন একর জমিতে ২০২০ সালে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনতলা বিশিষ্ট ১০০ শয্যার এই হাসপাতালের নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের জুনে শেষ করে এম এন হুদা কনস্ট্রাকশন। তবে দায়িত্ব গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ না হওয়ায় এতদিন হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হাসপাতাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, শিশুদের এনআইসিইউ সুবিধা এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদাপত্র ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালের শিশুবিভাগে রোগীর চাপ কমবে। পাশাপাশি কুমিল্লাসহ আশপাশের জেলার শিশু রোগীরা ঢাকায় না গিয়েই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের বলেন, “নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হলেও কোনো দপ্তর ভবনটি বুঝে নেয়নি। তবে সরকার চাইলে দ্রুত বরাদ্দের মাধ্যমে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব।”
এদিকে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, ভবনটি বুঝে নিতে তাদের কাছে চিঠি এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর দ্রুত হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল একটি গণমাধ্যমে “৩২০ কোটি টাকা খরচে ৬ শিশু হাসপাতালের ভবন পড়ে আছে” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রতিবেদনে রংপুর, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও কুমিল্লায় নির্মিত আধুনিক শিশু হাসপাতাল দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার তথ্য উঠে আসে।









