এপ্রিল ৪, ২০২৫

শুক্রবার ৪ এপ্রিল, ২০২৫

৮ মাসে ৩৬১ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, মেয়েদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি

361 students commit suicide in 8 months, girls are the highest number
৮ মাসে ৩৬১ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, মেয়েদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত

গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ৮ মাসে ৩৬১ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। তাদের মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থী ১৬৯ জন, কলেজ শিক্ষার্থী ৯৬ জন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ৬৬ জন এবং মাদরাসা শিক্ষার্থী ৩০ জন।

শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে আঁচল ফাউন্ডেশন আয়োজিত শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার ক্রমবর্ধমান: কোন পথে সমাধান? শীর্ষক সমীক্ষা প্রতিবেদন ও সম্মেলন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

এরআগে ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চালানো সমীক্ষায় আত্মহত্যার ঘটনা ছিল ১০১টি। আর ২০২২ সালে দেশে আত্মহত্যাকারী মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৩২। এরই ধারাবাহিকতায় এই বছর দেশের ১০৫টি জাতীয়, স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন পোর্টাল থেকে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার তথ্য সংগ্রহ করে সংস্থাটি।

সমীক্ষার তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে আত্মহত্যা করে ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ। খুলনা বিভাগে আত্মহত্যা করে ১৩ শতাংশ এবং চট্টগ্রাম বিভাগে আত্মহত্যা করে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। রংপুরে বিভাগে আত্মহত্যা করে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, ময়মনসিংহে আত্মহত্যা করে ১০ শতাংশ এবং রাজশাহীতে আত্মহত্যা করে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং বরিশালে আত্মহত্যা করে ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ। এছাড়া সিলেটে আত্মহত্যা করে ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

আঁচল ফাউন্ডেশনের গবেষক দল আত্মহননকারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী অভিমান। অভিমানের কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে ৩১ দশমিক ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থী ৫৭ জন এবং সমসংখ্যক পুরুষ শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়াও আত্মহত্যার পেছনে আরও বেশ কয়েকটি কারণ খুঁজে পেয়েছেন তারা, যেমন- প্রেমঘটিত কারণ, পারিবারিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, অ্যাকাডেমিক চাপ, মানসিক অস্থিতিশীলতা, পারিবারিক সমস্যা এবং অন্যান্য।

আঁচল ফাউন্ডেশন জানায়, আত্মহত্যাকারীদের বয়স ভিত্তিক বিবেচনায় দেখা যায় সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যা করেছেন ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা। ১ থেকে ১২ বছরের শিক্ষার্থী ছিল ৮.৩০ শতাংশ। আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি নারী শিক্ষার্থীদের।

সংবাদ সম্মেলনে আঁচল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ বলেন, এর আগের আত্মহত্যার ডাটাগুলোতে আমরা দেখেছিলাম আত্মহত্যার পেছনে প্রেমঘটিত সম্পর্কের দায় বেশি থাকে, কিন্তু এবারে ভিন্ন তথ্য সামনে আসছে। আত্মহত্যার পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে অভিমান। অভিমানের কারণে আত্মহত্যা পরিবারের সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক কতটুকু মজবুত তা নিয়ে চিন্তার উদ্রেক করে। গতবছর আত্মহত্যার পেছনে করোনা একটা বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছিল। এ বছর করোনা না থাকলেও আত্মহত্যার সংখ্যা আমাদের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আঁচল ফাউন্ডেশন ১১ দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, আত্মহত্যা মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত ও সহজলভ্য করতে একটি টোল ফ্রি জাতীয় হটলাইন নম্বর চালু করা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আবেগ অনুভূতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল ও ধৈর্যশীলতার পাঠ শেখানো, শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবিলা করার কৌশল, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং মানসিক বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে শেখানো, পরিবারে, সমাজে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সহানুভূতি এবং সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিতে হবে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিবার-অভিভাবকদের আত্মহত্যা সতর্কতা চিহ্ন সম্পর্কে ধারণা বিস্তৃত করা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে যুগপৎভাবে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা।