মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০ হাজার ৫০০ টাকায় সৌদি থেকে বাংলাদেশে ফেরার সুযোগ প্রবাসী কর্মীদের

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Biman Bangladesh Airlines
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশে যাতায়াতে এক যুগান্তকারী ও সাশ্রয়ী সুযোগ তৈরি করেছে সরকার। বর্তমান সরকারের প্রবাসীবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ রুটে একমুখী বিমানের টিকিটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২০ হাজার ৫০০ টাকা।

এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন প্রবাসী কর্মীদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ সহজ হবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আর্থিকভাবে উল্লেখযোগ্য লাভবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানায়।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, হজ মৌসুমে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিমানের একমুখী অনেক ফ্লাইট দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা অবস্থায় পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেই প্রচলিত ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়েই এই বিশেষ ভাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, মদিনা–ঢাকা ও জেদ্দা–ঢাকা রুটে একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২০,৫০০ টাকা। আর যাওয়া–আসা (রিটার্ন) টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৪২,০০০ টাকা।

এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় সরকার মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১০০ কোটি টাকারও বেশি অতিরিক্ত আয় হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সরকার ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী—

  • বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে এই বিশেষ ভাড়া কার্যকর থাকবে ১৮ এপ্রিল থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত

  • আর বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ফেরার ক্ষেত্রে সুবিধাটি পাওয়া যাবে ৩০ মে থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত

বিমানের ইতিহাসে এত বড় পরিসরে সাশ্রয়ী ভাড়ার এমন উদ্যোগ এই প্রথম, যা সরাসরি সাধারণ প্রবাসী কর্মীদের উপকারে আসবে।

এই প্রবাসীবান্ধব উদ্যোগের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত প্রবাসী ভাই-বোনদের জীবনযাত্রা সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”

তবে অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেক ভালো উদ্যোগ সঠিক তদারকি ও পরিচর্যার অভাবে সফল হয়নি। তাই এই উদ্যোগটি যেন শতভাগ স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

আরও পড়ুন