
লাইফস্টাইল ডেস্ক

নীল লেগুনে ঘেরা পলিনেশিয়ার দ্বীপ থেকে শুরু করে চিলির বিস্তীর্ণ ওয়াইন ভ্যালি—২০২৬ সালে ভ্রমণ মানে শুধু নতুন জায়গা দেখা নয়, বরং স্থানীয় কমিউনিটি, পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার এক গভীর অভিজ্ঞতা।
ভ্রমণপ্রেমীরা সাধারণত ক্রোয়েশিয়ার দব্রোভনিককে বেছে নেন। তবে একই অঞ্চলে অবস্থিত মন্টেনেগ্রোও কম ভিড়ের মধ্যে অসাধারণ সাগরতীর শহর, নতুন হাইকিং ট্রেইল এবং পাহাড়ি কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগের সুযোগ দিচ্ছে।
আবার বুয়েনাস আইরেস থেকে জলপথ পেরিয়ে পৌঁছানো যায় উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওতে—সবুজে ঘেরা শহরটি টাঙ্গো, স্টেক ও নান্দনিক স্থাপত্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। রোম চিরন্তন হলেও, আলজেরিয়ার প্রাচীন রোমান ধ্বংসাবশেষ জনসমুদ্র এড়িয়ে ইতিহাস দেখার বিরল সুযোগ এনে দেয়।
এই বছরের ভ্রমণ গাইডে এমন সব গন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে পর্যটনের সুফল সরাসরি পৌঁছায় স্থানীয় মানুষের কাছে এবং পরিবেশ ও সংস্কৃতি রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তালিকা তৈরিতে মতামত নিয়েছেন বিশ্বস্ত সাংবাদিক, পর্যটন বিশেষজ্ঞ ও টেকসই ভ্রমণের অগ্রদূতরা।
কেন যাবেন: নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও থিম পার্ক অভিজ্ঞতার জন্য
মরুভূমির শহর আবুধাবি এখন সাংস্কৃতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। লুভর আবুধাবি উদ্বোধনের পর সাদিয়াত কালচারাল জেলা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখানে চালু হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ডিজিটাল আর্ট মিউজিয়াম ‘টিমল্যাব ফেনোমেনা’ এবং জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম, যেখানে আবুধাবির ইতিহাস, ইসলামিক প্রভাব ও রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠাতার দর্শন তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া ইয়াস আইল্যান্ডে ওয়ার্নার ব্রোস ওয়ার্ল্ড ও ইয়াস ওয়াটারওয়ার্ল্ডে যোগ হচ্ছে নতুন রাইড ও বিনোদন। মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম ডিজনিল্যান্ডও এখানেই গড়ে উঠছে।
কেন যাবেন: রোমান ধ্বংসাবশেষ, মরুভূমি ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের জন্য
রোমান ধ্বংসাবশেষ, বিস্ময়কর সাহারা মরুভূমি ও ঐতিহাসিক শহরের মেলবন্ধনে আলজেরিয়া অনন্য। পর্যটন বাড়াতে দেশটি চালু করেছে নতুন ভিসা নীতি ও ফ্লাইট সংযোগ। আলজিয়ার্সের উপকূলীয় শহর, কনস্টান্টিনের ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এবং টিমগাদ ও জেমিলার রোমান নিদর্শন এখন সহজেই ঘুরে দেখা যায়। জ্যানেট শহর থেকে শুরু করা যায় সাহারা অভিযান।
কেন যাবেন: ওয়াইন, কাউবয় সংস্কৃতি ও তারামণ্ডল দেখার জন্য
সান্তিয়াগো থেকে দুই ঘণ্টা দক্ষিণে অবস্থিত কলচাগুয়া ভ্যালি ওয়াইন, ঐতিহ্যবাহী হ্যাসিয়েন্ডা ও পাহাড়ি হাইকিংয়ের জন্য পরিচিত। এখানে আঙ্গুরক্ষেতের মাঝখানে আধুনিক ভিলায় থাকা, রোডিও দেখা, তারাভরা আকাশ পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে।
কেন যাবেন: শান্ত নীল লেগুন ও দ্বীপজ জীবনের জন্য
রারোটোঙ্গা দ্বীপ দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের স্বপ্নিল সৌন্দর্যের প্রতীক। আরও ১৩টি ছোট দ্বীপ প্রায় স্বতন্ত্রভাবে ঘোরা যায়। ২০২৬ সালে এখানে পরিবেশগত উদ্যোগ ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার হচ্ছে।
কেন যাবেন: বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ বায়োস্ফিয়ার হটস্পট
রেইনফরেস্ট, প্যাসিফিক উপকূল, সৈকত ও বিপুল জীববৈচিত্র্য—সবই এক দেশে। ২০২৬ সালে সুরক্ষিত এলাকা বাড়ানো ও কমিউনিটি-ভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেন যাবেন: প্রাচীন নিদর্শন, সাদা বালির সৈকত ও স্কটিশ আতিথেয়তার জন্য
লুইস, ব্যারারা ও আইলেই দ্বীপে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্য, নতুন হুইস্কি ডিস্টিলারি এবং নিরিবিলি সৈকত—প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয়।
কেন যাবেন: ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও সাকের জন্য
২০২৪ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত নোটো উপদ্বীপ পুনর্গঠনের পথে। পরিবার-পরিচালিত ইন্সে থাকা ও স্থানীয় হস্তশিল্প কেনার মাধ্যমে পর্যটকেরা সরাসরি কমিউনিটিকে সহায়তা করতে পারেন।
কেন যাবেন: কমোডো ড্রাগন, প্রবাল রিফ ও সংরক্ষণ উদ্যোগের জন্য
প্রাগৈতিহাসিক কমোডো ড্রাগন, মন্টা রে ও প্রবাল উদ্যানের সঙ্গে এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। নিয়ন্ত্রিত পর্যটন ও ইকো-লজ ব্যবস্থাপনা পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী রক্ষায় সহায়ক।
লোরেতো, মেক্সিকো: সমুদ্র ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ
মন্টেনেগ্রো: কোতার উপসাগর ও পাহাড়ি হাইকিং
ওরেগন কোস্ট, যুক্তরাষ্ট্র: সমুদ্রতীর ও সাইক্লিং
ওউলু, ফিনল্যান্ড: আর্কটিক সংস্কৃতি ও সৃজনশীল উৎসব
ফিলাডেলফিয়া, যুক্তরাষ্ট্র: ২৫০ বছর উদযাপন ও ক্রীড়া
ফ্নোম পেন, কম্বোডিয়া: নতুন বিমানবন্দর ও টেকসই পর্যটন
গুইমারায়েস, পর্তুগাল: ইউরোপীয় সবুজ রাজধানী
সামবুরু, কেনিয়া: বিরল বন্যপ্রাণী ও তারা পর্যবেক্ষণ
সান্টো ডমিংগো, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র: উৎসব ও সংস্কৃতি
স্লোকান ভ্যালি, কানাডা: ইতিহাসভিত্তিক হাইকিং
উলুরু, অস্ট্রেলিয়া: পবিত্র ভূমি ও প্রকৃতি কর্মশালা
উরুগুয়ে: ফ্লামিংগো লেগুন, স্টেক ও টেকসই পর্যটন
২০২৬ সালে ভ্রমণ মানে শুধু ঘোরা নয়—শেখা, অনুভব করা এবং ইতিবাচক প্রভাব রাখা। পাহাড়ে হাইকিং হোক বা সমুদ্রের নীল জলে ভাসা, এই গন্তব্যগুলো স্মরণীয় অভিজ্ঞতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল পর্যটনের সুযোগ এনে দেয়। পর্যটক হিসেবে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই পৃথিবীর ভবিষ্যৎকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে।
সূত্র: BBC Travels
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC