শুক্রবার ১০ এপ্রিল, ২০২৬

হজ ও ওমরার সমতুল্য সওয়াব পেতে পারেন যেসব আমলে

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি মুমিনেরই একান্ত আকাঙ্ক্ষা হজ পালন করা। তবে নানা কারণে সবার পক্ষে এই মহান ইবাদত আদায় করা সম্ভব হয় না।

তাই প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কিছু আমলের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর মাধ্যমে একজন মুসলমান হজ ও ওমরার সমতুল্য সওয়াব লাভ করতে পারেন।

এক. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর তাসবিহ পাঠ

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, جَاءَ الفُقَرَاءُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوا: ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ مِنَ الأَمْوَال بِالدَّرَجَاتِ العُلاَ، وَالنَّعِيمِ المُقِيمِ، يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ، وَلَهُمْ فَضْلٌ مِنْ أَمْوَالٍ يَحُجُّونَ بِهَا، وَيَعْتَمِرُونَ، وَيُجَاهِدُونَ، وَيَتَصَدَّقُونَ، قَالَ: أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ إِنْ أَخَذْتُمْ أَدْرَكْتُمْ مَنْ سَبَقَكُمْ وَلَمْ يُدْرِكْكُمْ أَحَدٌ بَعْدَكُمْ، وَكُنْتُمْ خَيْرَ مَنْ أَنْتُمْ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِ إِلَّا مَنْ عَمِلَ مِثْلَهُ تُسَبِّحُونَ وَتَحْمَدُونَ وَتُكَبِّرُونَ خَلْفَ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ

দরিদ্র সাহাবিরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলেন—ধনবানরা উচ্চ মর্যাদা ও স্থায়ী নিয়ামত লাভ করছেন। তারা নামাজ পড়েন, রোজা রাখেন, আবার সম্পদের কারণে হজ, ওমরা, জিহাদ ও দান-সদকাও করতে পারেন।

তখন নবীজি (সা.) বলেন, “আমি কি তোমাদের এমন একটি আমল শেখাব না, যা করলে তোমরা অগ্রগামীদের সমপর্যায়ে পৌঁছবে?” এরপর তিনি নির্দেশ দেন—প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, ৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং ৩৩ বার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়তে।

এর সঙ্গে একবার পড়তে হবে—
لَا إِلهَ إِلّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৪৩)

উল্লেখ্য, ৩৩-৩৩-৩৪ বার তাসবিহ পড়ার আমলটিও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং এরও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৯৬)

দুই. ফজরের নামাজের পর জিকির ও দুই রাকাত নামাজ

ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে জিকির করতে থাকা, এরপর দুই রাকাত নামাজ পড়া। হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, مَنْ صَلّى صَلَاةَ الْغَدَاةِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ جَلَسَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ، انْقَلَبَ بِأَجْرِ حَجّةٍ وَعُمْرَةٍ

যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করল, তারপর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে আল্লাহর জিকির করল, এরপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করল, সে ব্যক্তি হজ ও ওমরার সওয়াব নিয়ে ফিরল।

(মুজামে কাবির, তবারানি, হাদিস: ৭৭৪১)

তিন. ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়া

হযরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ مُتَطَهِّرًا إِلَى صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْحَاجِّ الْمُحْرِمِ، وَمَنْ خَرَجَ إِلَى تَسْبِيحِ الضُّحَى لَا يَنْصِبُهُ إِلَّا إِيَّاهُ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْمُعْتَمِرِ

যে ব্যক্তি অজু করে ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে নিজের ঘর থেকে বের হয় সে হজ আদায়কারীর মত সওয়াব লাভ করে। আর যে ব্যক্তি শুধু পূর্বাহ্নের নামাজ (চাশতের নামাজ) আদায়ের উদ্দেশ্যে কষ্ট করে মসজিদে যায়, সে ওমরা আদায়কারীর মত সওয়াব লাভ করে।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫৫৮)

চার. ভালো কিছু শেখা বা শেখানোর জন্য মসজিদে গমন

ভালো কথা শেখা বা শেখানোর লক্ষ্যে মসজিদে গমন করা। হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ لَا يُرِيدُ إِلَّا أَنْ يَتَعَلَّمَ خَيْرًا أَوْ يعلمهُ، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ حَاجٍّ تَامّا حجّتُهُ

যে ব্যক্তি মসজিদে গেল কোনো ভালো কথা শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে, সে পরিপূর্ণরূপে হজ আদায়কারীর ন্যায় সওয়াব লাভ করবে।

(মুজামে কাবির, তবারানি, হাদিস: ৭৪৭৩)

পাঁচ. মা-বাবার সেবা করা

হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি জিহাদের আগ্রহ প্রকাশ করলে নবীজি (সা.) জানতে চান তার মা-বাবা জীবিত কি না। সে জানায়, তার মা জীবিত আছেন।

তখন নবীজি (সা.) বলেন, “মায়ের সেবা কর এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় কর। যদি তুমি তা করতে পার এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন, তবে তুমি হজ, ওমরা ও জিহাদের সওয়াব পাবে।”

(মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস: ২৭৬০)

আরও পড়ুন