রবিবার ১১ অক্টোবর, ২০২৬

সৌদিতে ওমরাহ করতে গিয়ে বিমানবন্দরে হামলায় আর ফেরা হল না কুমিল্লার নাসরুল্লাহর

নিজস্ব প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Nasrullah from Cumilla never returned home after being attacked at the airport while travelling to Saudi Arabia for Umrah.
সৌদিতে ওমরাহ করতে গিয়ে বিমানবন্দরে হামলায় আর ফেরা হল না কুমিল্লার নাসরুল্লাহর/ছবি: পরিবারের সৌজন্যে

পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে গিয়ে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত হয়েছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মুফতি নাসরুল্লাহ (৩৫)।

তিনি উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর ওলামা বাড়ির মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলূম মাদ্রাসার শিক্ষাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে মাদ্রাসার ৪৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবের পথে যাত্রা করেন নাসরুল্লাহ।

নিহতের বড় ভাই মাওলানা আহসান উল্লাহ বদর জানান, চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নাসরুল্লাহ ছিলেন তৃতীয়। ওমরাহ যাত্রায় মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকায় তিনি সবাইকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

তিনি বলেন, রিয়াদে পৌঁছে নাসরুল্লাহ জেদ্দার উদ্দেশে যাত্রার জন্য বোর্ডিং পাস সম্পন্ন করেন। এ সময় তিনি দলের সবার দায়িত্বে থাকায় সামনের দিকে অবস্থান করছিলেন। তাঁর ১০ থেকে ১৫ হাত সামনেই একটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

আহসান উল্লাহ বদর আরও জানান, আহত অবস্থায় নাসরুল্লাহকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। পরে ধর্মমন্ত্রী ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকেও তাঁর সন্ধানে যোগাযোগ ও খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।

তিনি বলেন, যে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে নাসরুল্লাহ সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী তাঁদের কাছে তাঁর মৃত্যুসনদ পাঠান। রোববার বিকেল ৪টার দিকে তাঁরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন।

নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করে আহসান উল্লাহ বদর বলেন, ‘শিশুসহ তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। আমরা চাই, দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি তাঁর পরিবার যেন যথাযথ ক্ষতিপূরণ পায়, সে উদ্যোগও নেওয়া হোক। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।’

নাসরুল্লাহর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, শনিবার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁরা। রোববার বিকেলে ছেলের মৃত্যুর খবর পান। এখন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান বলেন, খবর পাওয়ার পর তিনি নিহতের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়েছেন। মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

আরও পড়ুন