
হলিউডের চিরসবুজ রোমান্টিক নায়ক জর্জ ক্লুনি কি তবে প্রেমের গল্পকে বিদায় জানাচ্ছেন? বড় পর্দায় আর রোম্যান্টিক চরিত্রে দেখা যাবে না—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ এই হলিউড তারকা। শুধু তাই নয়, সিনেমায় আর ‘মেয়েদের চুম্বন করবেন না’ বলেও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৬৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা জানান, স্ত্রী আমাল ক্লুনির সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
ক্লুনি বলেন, “আমি পল নিউম্যানের পথ অনুসরণ করার চেষ্টা করছি—আর মেয়েদের চুম্বন করছি না।”
নিজের বয়স ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বাস্তববাদী চিন্তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ক্লুনি বলেন,
“আমি যখন ৬০-এ পৌঁছালাম, তখন বিষয়টা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি। আমি বলেছিলাম—দেখো, আমি এখনও বাস্কেটবল খেলতে পারি, এমনকি ২৫ বছরের ছেলেদের সঙ্গেও খেলি, শারীরিকভাবে ফিট আছি। কিন্তু ২৫ বছর পরে আমি ৮৫ হব।”
এই সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত অবশ্য আগেই দিয়েছিলেন জর্জ ক্লুনি। চলতি বছরের মার্চে জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘সিক্সটি মিনিটস’-এ তিনি জানিয়েছিলেন, এখন থেকে আর রোমান্টিক সিনেমায় অভিনয়ের কোনো ইচ্ছা নেই তার। বরং নতুন প্রজন্মের হলিউড অভিনেতাদের জন্য জায়গা করে দিতে চান তিনি।
সে সময় ক্লুনি বলেছিলেন, “আমার বয়স এখন ৬৩। আমি ২৫ বছরের তরুণ অভিনেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে চাই না। সেটা আমার কাজ নয়। আমি আর রোমান্টিক সিনেমা করব না।”
একসময়ের হলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় রোমান্টিক অভিনেতা হিসেবে পরিচিত জর্জ ক্লুনি। তার ঝুলিতে রয়েছে একাধিক স্মরণীয় প্রেমের ছবি— ‘ওয়ান ফাইন ডে’, ‘আউট অব সাইট’, ‘আপ ইন দ্য এয়ার’, ‘টিকিট টু প্যারাডাইস’।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ক্লুনির ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত রোমান্টিক সিনেমা ‘ওয়ান ফাইন ডে’, যা পরিচালনা করেছিলেন মাইকেল হফম্যান। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৬ সালে। এই ছবির মাধ্যমেই রোমান্টিক নায়ক হিসেবে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে।
সময় বদলেছে, বদলেছে দর্শকের প্রত্যাশাও। সেই বাস্তবতাকে মেনেই হয়তো নিজের অবস্থান নতুনভাবে নির্ধারণ করছেন হলিউডের এই তারকা।










