শুক্রবার ১০ এপ্রিল, ২০২৬

সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তার দাবিতে কুমিল্লায় মানববন্ধন

রাইজিং কুমিল্লা প্রতিবেদক

Rising Cumilla - Human chain formed in Comilla demanding security for minorities, indigenous people and women voters
সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তার দাবিতে কুমিল্লায় মানববন্ধন

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, আদিবাসী ও নারীসহ সকল ভোটারদের নিরাপদ এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তার দাবিতে কুমিল্লায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৩টা থেকে কুমিল্লা শহরে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন নিজেরা করি’র আঞ্চলিক সমন্বয়ক আব্দুল জব্বর। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা দীপ্ত দেবনাথ। এছাড়া বক্তব্য দেন ভূমিহীন নেত্রী তৃপ্তি রাণী এবং নিজেরা করি’র হিসাবরক্ষক অফিসার শাহজাহান ইসলাম।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য সাথী মজুমদার, অর্পিতা সরকার, শ্রাবনী সরকারসহ ভূমিহীন নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ছাত্র-জনতা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ছাত্রনেতা দীপ্ত দেবনাথ বলেন, গণতন্ত্র তখনই স্বার্থক হয়, যখন রাষ্ট্রের সবচেয়ে শেষ প্রান্তের মানুষটিও নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে নিজের মত প্রকাশ করতে পারে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, আদিবাসী গোষ্ঠী ও নারী ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে—কোথায় ভোট দিতে হবে, কাকে ভোট দিতে হবে—এমন নানা ধরনের হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে এর দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী ও আদিবাসী পাহাড়ি জনগোষ্ঠী যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, কথা বলতে পারে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পায়—এটাই আমাদের দাবি।

দীপ্ত দেবনাথ বলেন, যদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও নারী সমাজসহ সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে এর দায় সম্পূর্ণভাবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর বর্তাবে। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিন।

মানববন্ধনে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও বলেন, সকল মানুষ যেন কোনো ধরনের হুমকি-ধমকি ছাড়া নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ভোটার, সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষজন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও আদিবাসী জনগণ—সকলেই যেন নিজেদের পছন্দমতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব সরকারের।

বক্তারা আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবশ্যই সকল শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চায় কেউ বঞ্চিত না হয়।

আরও পড়ুন