
শীতের সময়ে দিনের আলো কমে আসে, রাত দীর্ঘ হয়। এই পরিবর্তন অনেকের মনেই তৈরি করে এক ধরনের বিষণ্নতা ও অস্থিরতা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার’ (এসএডি) বা শীতকালীন অবসাদ। সূর্যালোকের অভাব এবং শরীরের হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এ সময় মন খারাপ হওয়া, একাকিত্ব কিংবা অস্বস্তি অনুভব করা স্বাভাবিক।
তবে মনোবিদ ও পুষ্টিবিদদের মতে, এই অবসাদ শুধু আবহাওয়ার কারণে নয়—আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসও একে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো সাময়িকভাবে আনন্দ দিলেও শরীরের ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে মানসিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। শীতকালীন অবসাদ বা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা এড়াতে কোন কোন খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া জরুরি—তা নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।
শীতকালে যারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বা একাকিত্বে ভোগেন, তাদের জন্য নিচের খাবারগুলো বিষের মতো কাজ করতে পারে—
মন খারাপ হলে অনেকেই চকোলেট বা মিষ্টির দিকে ঝুঁকে পড়েন। একে বলা হয় ‘সুগার রাশ’।
চিনি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় এবং কিছুক্ষণ পরেই তা দ্রুত কমিয়ে দেয়। এই উত্থান-পতন মেজাজকে খিটখিটে করে তোলে এবং দীর্ঘমেয়াদে অবসাদ বাড়িয়ে দেয়।
সাদা পাস্তা, সাদা পাউরুটি কিংবা ময়দার তৈরি লুচি-পরোটা শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন সৃষ্টি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট গ্রহণে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা অবসাদের লক্ষণগুলোকে আরও তীব্র করে তোলে।
শীতের ঠান্ডায় বারবার কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং স্নায়ুকে অতিরিক্ত উত্তেজিত রাখে। ঘুমের অভাব সরাসরি বিষণ্নতা ও উদ্বেগের সঙ্গে সম্পর্কিত। দিনে দুই কাপের বেশি কফি খেলে অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে।
চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস কিংবা হিমায়িত খাবারে প্রচুর প্রিজারভেটিভ ও সোডিয়াম থাকে।
এসব উপাদান মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করে। বিশেষ করে ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং মন খারাপের অনুভূতি বাড়ায়।
অনেকে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য চিনির বদলে কৃত্রিম সুইটেনার ব্যবহার করেন। এতে থাকা ‘অ্যাসপার্টাম’ নামক উপাদান মস্তিষ্কে ডোপামিন হরমোন তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে আনন্দ বা খুশির অনুভূতি কমে গিয়ে মন আরও বিষণ্ন হয়ে পড়ে।
শীতকালীন অবসাদ কমাতে সঠিক খাবার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—
ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড : সামুদ্রিক মাছ, আখরোট ও তিল মেজাজ ভালো রাখতে সহায়ক।
ভিটামিন ডি : শীতের সকালে নিয়মিত রোদে দাঁড়ান, পাশাপাশি ডিমের কুসুম ও মাশরুম খেতে পারেন।
ডার্ক চকোলেট : অল্প পরিমাণে ডার্ক চকোলেট স্ট্রেস হরমোন কমাতে কার্যকর।
শীতের এই সময়ে শরীরের পাশাপাশি মনের যত্ন নেওয়াও সমান জরুরি। আপনার খাবারের তালিকায় কী থাকছে, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা। তাই অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন, নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস









