শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শীতে বেড়েছে ডায়রিয়া রোগী: চাঁদপুরের আইসিডিডিআরবিতে উপচে পড়া ভিড় কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার শিশুর রোগীর

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - Matlab Hospital
চাঁদপুরের মতলবে অবস্থিত আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল/ছবি: সংগৃহীত

সারাদেশে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হু হু করে বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বিশেষ করে শীতকালীন ডায়রিয়া ও রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলছে।

চাঁদপুরের মতলবে অবস্থিত আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) হাসপাতালে বর্তমানে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, শরীয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জ থেকে প্রতিনিয়ত এই হাসপাতালে ছুটে আসেন রোগীরা।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ড ডায়রিয়া রোগীতে পরিপূর্ণ। শয্যার সংকটের কারণে অনেক রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায়ও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রোগীদের অধিকাংশই শিশু। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩ হাজার ৮৫৬ জন রোগী মতলব আইসিডিডিআরবি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয়েছে ২৫৭ জন রোগী। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।

ভর্তিকৃত রোগীদের মধ্যে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু রয়েছে ৩ হাজার ৩৭০ জন। মোট রোগীর মধ্যে শতকরা ৮৭ জনই শিশু, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি। তবে এ পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

চিকিৎসকরা জানান, ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় অর্ধেকই কয়েক ঘণ্টার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। শীতের শুষ্ক আবহাওয়া ভাইরাসের বংশবিস্তারকে সহজ করে দেয়। পাশাপাশি দূষিত খাবার ও পানি পান করার ফলে শীতকালে শিশুরা ব্যাপকভাবে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

মতলব আইসিডিডিআরবি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ২৭৩ জন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৪৬ জন, হাজীগঞ্জ উপজেলার ১৬৯ জন, কচুয়া উপজেলার ১৮৭ জন, মতলব উত্তর উপজেলার ১১৩ জন, মতলব দক্ষিণ উপজেলার ১৪২ জন, শাহারাস্তি উপজেলার ৮০ জন এবং হাইমচর উপজেলার ৩৪ জন।

কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে বরুড়া থেকে ১৮৯ জন, ব্রাহ্মণপাড়া ৭৬ জন, বুড়িচং ১৪৩ জন, চান্দিনা ১৬০ জন, কুমিল্লা সদর (আদর্শ) ১২৬ জন, কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ) ৯৯ জন, চৌদ্দগ্রাম ৪৭ জন, তিতাস ১০৫ জন, দাউদকান্দি ২০৩ জন, দেবিদ্বার ২৪০ জন, হোমনা ৭৬ জন, লাকসাম ১০৯ জন, মেঘনা ৫ জন, মনোহরগঞ্জ ৩৬ জন, মুরাদনগর থেকে ২৮৯ জন এবং নাঙ্গলকোট থেকে ৪৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া লক্ষ্মীপুর সদর থেকে ২০৫ জন, কলমনগর ৩৮ জন, রায়পুর ৮৩ জন, রামগঞ্জ ১১৩ জন, নোয়াখালী সদর ৩২ জন, বেগমগঞ্জ ১৯ জন, চাটখীল ৪৯ জন, হাতিয়া ৪ জন, সোনাইমুড়ী ১৮ জন, সুবর্ণচর ৪ জন, শরীয়তপুরের সখীপুর উপজেলা থেকে ৭৯ জন এবং বেদরগঞ্জ থেকে ৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ সদর থেকে ৬ জন, গজারিয়া ১১ জন, নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থেকে ২ জন, কবিরহাট ৪ জন, ভোলার দৌলতখান থেকে ১ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ৪৪ জন, নবীনগর ৮ জন, দেওয়ানগঞ্জ ১ জন, বাঞ্ছারামপুর ১২ জন ও রাজারহাট থেকে ১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফেনী ও ভোলাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন।

এ বিষয়ে আইসিডিডিআরবির মতলব রিসার্চ সেন্টারের প্রধান ডা. মো. আল ফজল খান বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে, নিরাপদ পানি পান করলে এবং শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন নিলে এই রোগ এড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুন