
পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে এখনও এক মাসেরও বেশি সময় বাকি। তবে তার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে। রোজা এলেই দাম বাড়ে—এমন অভিযোগের মধ্যেই এবার আগেভাগেই বেড়েছে চিনির দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত।
অন্যদিকে, পুরোপুরি শীতের মৌসুমে কুমিল্লার কাঁচাবাজারগুলো যেন শীতকালীন সবজির উৎসবমুখর চেহারা ধারণ করেছে। বাজারজুড়ে সবজির প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে, আর সেই সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে দামও। দীর্ঘদিন পর সবজির বাজারে এমন স্বস্তি ফিরে পাওয়ায় খুশি সাধারণ ক্রেতারা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) কুমিল্লার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, মুলা, টমেটো, পালংশাক, লালশাকসহ প্রায় সব ধরনের শীতকালীন সবজি সহজলভ্য রয়েছে। বেশির ভাগ সবজির কেজি দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিছু শাকসবজি তো আরও কম দামে বিক্রি হচ্ছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বাড়তি স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে বাজারে ফুলকপি প্রতিটি ২৫ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, শিম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ও মুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং পালংশাক ও লালশাক প্রতি আঁটি ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।
ক্রেতারা বলছেন, সারা বছর ধরে সবজির বাড়তি দাম তাদের সংসারের বাজেটে বড় চাপ তৈরি করেছিল। শীতকাল আসায় সেই চাপ কিছুটা হলেও কমেছে।
তবে সবজির দামে স্বস্তি ফিরলেও মাছের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। বরং মাছের দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা কমলেও তার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ে না।
বর্তমানে বাজারে কোরাল মাছ কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, শিং মাছের দাম কিছুটা কমে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমেছে। এ ছাড়া টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ও সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বড় আকারের চিংড়ির দাম কেজিতে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং দুই কেজি ওজনের ইলিশ ২৬০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতা রহিম মিয়া জানান, শীতের মৌসুমে নদীতে মাছ কম ধরা পড়ায় আড়ত পর্যায়েই দাম বেড়ে গেছে, যার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়েছে।









