
লাইফস্টাইল ডেস্ক
শীতকালে গরম পানি থাকা শুধু আরামের বিষয় নয়, এটি দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। গোসল, বাসন ধোয়া কিংবা অন্যান্য কাজে গরম পানির ব্যবহার বাড়ে এই সময়ে। তবে এই আরামের সঙ্গে যুক্ত বিদ্যুৎ খরচ সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নন।
বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রগুলোর মধ্যে গিজার অন্যতম, যা তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তাই গিজারের বিদ্যুৎ খরচ কীভাবে হিসাব করা যায়, কোন বিষয়গুলো এই খরচ বাড়ায় বা কমায় এবং কীভাবে সাশ্রয় সম্ভব—এসব জানা জরুরি।
গিজারের বিদ্যুৎ খরচ হিসাব করা মোটেও জটিল নয়। এর জন্য শুধু দুটি বিষয় জানা থাকলেই যথেষ্ট—
১. গিজারের পাওয়ার রেটিং (ওয়াটেজ)
২. প্রতিদিন কতক্ষণ গিজার ব্যবহার করা হয়
প্রতিটি গিজারের একটি নির্দিষ্ট ওয়াটেজ থাকে, যা নির্দেশ করে গরম করার সময় এটি কত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। সাধারণত গিজারের ওয়াট ৫০০ থেকে ৫০০০ ওয়াট পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে বেশিরভাগ গৃহস্থালি গিজার ১০০০ থেকে ২০০০ ওয়াটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এটি গিজারের ধরন (ইনস্ট্যান্ট বা স্টোরেজ) এবং ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।
ইনস্ট্যান্ট গিজার সাধারণত বেশি ওয়াটের হয়ে থাকে—অনেক ক্ষেত্রে ৫০০০ ওয়াট পর্যন্ত। অন্যদিকে স্টোরেজ গিজারের ওয়াটেজ তুলনামূলক কম, যেমন ১৫০০ ওয়াট, তবে এতে বড় ট্যাঙ্কে পানি জমা রেখে গরম করা হয়।
বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব করতে এই সহজ সূত্রটি ব্যবহার করা যায়—
ধরা যাক, আপনার গিজারের পাওয়ার রেটিং ২০০০ ওয়াট বা ২ কিলোওয়াট এবং এটি প্রতিদিন গড়ে ২ ঘণ্টা ব্যবহার করা হয়।
তাহলে দৈনিক বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে—
২ কিলোওয়াট × ২ ঘণ্টা = ৪ কিলোওয়াট আওয়ার
মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার দাঁড়াবে—
৪ কিলোওয়াট আওয়ার × ৩০ দিন = ১২০ কিলোওয়াট আওয়ার
যদি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ধরা হয়, তাহলে মাসে গিজারের জন্য খরচ হবে—
১২০ × ৭ = প্রায় ৮৪০ টাকা।
এই হিসাবটি মূলত ইনস্ট্যান্ট গিজারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইনস্ট্যান্ট গিজারে কোনো ট্যাঙ্ক থাকে না; অল্প পরিমাণ পানি তাৎক্ষণিকভাবে গরম করে সরবরাহ করা হয়। এটি ছোট পরিবার বা কম পানির চাহিদার জন্য উপযোগী। তবে বারবার চালু করতে হয় এবং ওয়াটেজ বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক বেশি হয়।
অন্যদিকে স্টোরেজ গিজার একটি বড় ট্যাঙ্কে পানি গরম করে জমা রাখে। ফলে একাধিক ব্যবহারকারী বা দীর্ঘ সময় ধরে গরম পানি ব্যবহার করা সম্ভব হয়। বড় পরিবারের জন্য এটি বেশি উপযোগী এবং ইনস্ট্যান্ট গিজারের তুলনায় বিদ্যুৎ খরচ সাধারণত অর্ধেক বা তারও কম হয়ে থাকে।
ওয়াটেজ (পাওয়ার রেটিং)
ওয়াটেজ যত বেশি, পানি তত দ্রুত গরম হবে। তবে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচও বাড়বে। তাই দৈনন্দিন প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়াটেজ নির্বাচন করা উচিত।
ব্যবহারের সময়কাল
গিজার যত বেশি সময় চালু থাকবে, বিদ্যুৎ খরচ তত বাড়বে। প্রয়োজন শেষ হলেই গিজার বন্ধ করলে খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
পানির পরিমাণ ও ট্যাঙ্কের ক্ষমতা
২৫ লিটার মতো বড় স্টোরেজ গিজার ছোট মডেলের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। এক বা দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ছোট স্টোরেজ বা ইনস্ট্যান্ট গিজার তুলনামূলক সাশ্রয়ী।
পানির প্রাথমিক তাপমাত্রা
শীতকালে পানির তাপমাত্রা কম থাকে। ফলে পানি গরম করতে বেশি সময় লাগে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণও বেড়ে যায়।
থার্মোস্ট্যাট সেটিং
অধিকাংশ গিজার ৬০ থেকে ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পানি গরম করতে সক্ষম। তবে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ৫০–৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসই যথেষ্ট। বেশি সেটিং রাখলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ হয়।
ইনসুলেশন ও তাপ ক্ষতি
ভালো মানের ইনসুলেশন না থাকলে ট্যাঙ্ক ও পাইপের মাধ্যমে তাপ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এতে বারবার গিজার চালাতে হয়। উন্নত ইনসুলেশন দীর্ঘ সময় তাপ ধরে রাখে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে।
ব্যবহারের ফ্রিকোয়েন্সি ও পরিবারের আকার
পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে এবং দিনে একাধিকবার গিজার ব্যবহার করলে স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।
স্কেল জমা ও রক্ষণাবেক্ষণ
দীর্ঘদিন ব্যবহারে গিজারের হিটিং এলিমেন্টে খনিজ পদার্থ বা স্কেল জমে যায়। এতে তাপ স্থানান্তরের কার্যকারিতা কমে যায় এবং নির্ধারিত তাপমাত্রায় পৌঁছাতে গিজারকে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করলে এই অতিরিক্ত খরচ এড়ানো সম্ভব।
সূত্র: নিউজ ১৮
সম্পাদক : শাদমান আল আরবী | নির্বাহী সম্পাদক : তানভীর আল আরবী
ঠিকানা : ঝাউতলা, ১ম কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০০। ফোন : ০১৩১৬১৮৬৯৪০, ই-মেইল : [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected], নিউজরুম: [email protected] © ২০২৩ রাইজিং কুমিল্লা সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত। | Design & Developed by BDIGITIC