মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২৬

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন, ৩ দিন অফলাইন ক্লাস

রাইজিং কুমিল্লা ডেস্ক

Rising Cumilla - online education
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন, ৩ দিন অফলাইন ক্লাস/ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার গতি সচল রাখতে এখন থেকে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে এবং বাকি তিন দিন সরাসরি শ্রেণিকক্ষে (অফলাইন) ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জানা গেছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে মোট ছয় দিন ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে তিন দিন শিক্ষার্থীরা সরাসরি স্কুলে উপস্থিত হয়ে ক্লাস করবে এবং বাকি তিন দিন ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাসে অংশ নেবে। ক্লাসের দিন নির্ধারণে জোড়-বিজোড় তারিখ অথবা রোল নম্বরভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে অনলাইন ক্লাসের দিনগুলোতেও শিক্ষকদের সশরীরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে এবং সেখান থেকেই পাঠদান পরিচালনা করতে হবে। বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ের ব্যবহারিক (প্র্যাকটিক্যাল) ক্লাসগুলো অবশ্যই অফলাইনে ল্যাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘ ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতেই সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে যাতায়াত ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যেও অনলাইন ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আপাতত এই পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রমজান, ঈদ ও অন্যান্য ছুটি মিলিয়ে প্রায় ৪০ দিন বন্ধ থাকার পর গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল আশঙ্কাজনকভাবে কম। বিশেষ করে ধানমন্ডি, গুলশান ও উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতি ছিল বেশ হতাশাজনক। এসব এলাকার অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত করে থাকায় জ্বালানি সংকটের কারণে তারা স্কুলে আসতে পারেনি।

এ বিষয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা খাতুন জানান, জ্বালানি সংকটে অনেক অভিভাবক গাড়ি বের করতে না পারায় আগেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে ছুটির কথা জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঈদের ছুটির পর সরকার তিনটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনায় নেয়। প্রথমত, সংকট তীব্র হলে সম্পূর্ণ অনলাইন ক্লাস চালু করা; দ্বিতীয়ত, অনলাইন ও অফলাইন—উভয় পদ্ধতি একসঙ্গে চালু রাখা (হাইব্রিড); এবং তৃতীয়ত, সপ্তাহের দিনগুলো ভাগ করে সমন্বিত রুটিন অনুযায়ী ক্লাস পরিচালনা করা।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম হান্নান জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শেষ পর্যন্ত হাইব্রিড পদ্ধতিতে শিক্ষাক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনও জানান, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমকে সমন্বিত করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

আরও পড়ুন