
শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহকে ‘ইনকিলাব সপ্তাহ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই যোদ্ধা শহিদ শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মূল আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হওয়াকে তারা নিন্দনীয় বলেও উল্লেখ করেছে।
এরই মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চ শহিদ ওসমান হাদির স্মরণে এবং হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির পাশাপাশি অনলাইনে “Saluting Our Cultural Hero” শীর্ষক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এসব কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখা ‘ইনকিলাব সপ্তাহ’ পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
ইনকিলাব সপ্তাহ উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে শহিদ ওসমান হাদির বক্তব্য, লেখা ও আদর্শ অনলাইন মাধ্যমে প্রচার করা হবে। পাশাপাশি তাঁর স্মরণে এবং হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে। ফোরামের সকল সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উক্ত কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখার সভাপতি
মো: রেদোয়ান বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি হত্যার ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও খুনিরা এখনো আইনের আওতার বাইরে। ন্যায়বিচারের দাবিতে সারাদেশে জনমত তৈরি হয়েছে। এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, নোবিপ্রবি শাখা ২০২৬ সালের প্রথম সপ্তাহকে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে ‘ইনকিলাব সপ্তাহ’ ঘোষণা করেছে। সপ্তাহজুড়ে তাঁর স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে এবং হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করা হবে।’
উল্লেখ্য, শরীফ ওসমান বিন হাদি (৩০ জুন ১৯৯৩ – ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক ও শিক্ষক। তিনি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। জুলাই শহিদদের অধিকার, আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন ও ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী রাজনীতির জন্য তিনি বাংলাদেশের আপামর জনতার কাছে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন।
১২ ডিসেম্বর ২০২৫ জুমার নামাজের পর ঢাকার বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।









